আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা রেটিংয়ে উচ্চঝুঁকিতে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় স্তরে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রতিবেদক · শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ · সন্ধ্যা ৭:২২ · ১৬৩ ভিউ

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার সর্বশেষ ঝুঁকি রেটিংয়ে বাংলাদেশ এখনো সর্বোচ্চ ঝুঁকির তৃতীয় স্তরে রয়েছে। একই সময়ে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ঝুঁকি রেটিংয়েও বড় পরিবর্তন এসেছে। দ্বিতীয় বা মাঝারি ঝুঁকির স্তরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২টিতে। অন্যদিকে প্রথম স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে নেমেছে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি রেটিং হালনাগাদ করে। এতে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের ভিসা ফলাফলের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর শীর্ষ ১০ উৎস দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশ এখন উচ্চঝুঁকির তৃতীয় স্তরে রয়েছে। অন্য দেশগুলো হলো—ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও কলম্বিয়া। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা রয়েছে মাঝারি ঝুঁকির স্তরে। আর চীন রয়েছে নিম্নঝুঁকির স্তরে।

বাংলাদেশের তৃতীয় স্তরে অবস্থান নতুন নয়। সর্বশেষ মূল্যায়নেও এই অবস্থানের পরিবর্তন না হওয়ায় বাংলাদেশ উচ্চঝুঁকির শ্রেণিতেই থাকছে।

এবার অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ঝুঁকি রেটিংয়ে পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্তরে এবং ২২টি দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে। দ্বিতীয় স্তরের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩টি আঞ্চলিক এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন মূল্যায়নে প্রথম স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে নেমেছে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়। তৃতীয় স্তরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই।

এর আগে গত বছর প্রথম স্তরে উন্নীত হওয়া ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টি এবার আর সেই স্তরে নেই।

তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন ঝুঁকি স্তরে রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে না অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরের মতে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হলে নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অসৎ আবেদনকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে এবং শিক্ষা ও ভিসা বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ঝুঁকি রেটিং কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের মূল্যায়ন নয়। বরং সংশ্লিষ্ট দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিসা ফলাফল এবং অভিবাসন ঝুঁকির বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে রেটিং নির্ধারণ করা হয়।

রেটিং নির্ধারণে জালিয়াতির কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারকে ৪০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভিসা বাতিলের হার ২৫ শতাংশ, ২৮ দিনের বেশি অবৈধ অবস্থানের হার ১৫ শতাংশ, জালিয়াতি ছাড়া অন্যান্য কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ১০ শতাংশ এবং স্টুডেন্ট ভিসার পর সুরক্ষা ভিসার আবেদনের হার ১০ শতাংশ গুরুত্ব পায়।

দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি রেটিংয়ের ভিত্তিতে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সময় আর্থিক সক্ষমতা ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ কীভাবে দিতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়।

এর মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার ভিসা আবেদনে বড় ধরনের পতনের তথ্য সামনে এসেছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে টাইমস হায়ার এডুকেশন জানিয়েছে, আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষার ভিসার জন্য আবেদন করা বাংলাদেশিদের মাত্র ২৪ শতাংশের আবেদন অনুমোদন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদন কমেছে ৮৩ শতাংশ। একই সময়ে অনুমোদিত ভিসার সংখ্যা কমেছে ৯৩ শতাংশ।

তবে বাংলাদেশ তৃতীয় ঝুঁকি স্তরে রয়েছে মানেই কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে—এমন নয়। ঝুঁকি রেটিং মূলত আবেদনকারীর কাছ থেকে কী ধরনের আর্থিক ও ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ চাওয়া হবে, তা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হয়।

সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেটিংয়ে পরিবর্তন এসেছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে দেশের ঝুঁকি স্তরের পাশাপাশি পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেটিংও ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ