সিলেট

কোম্পানীগঞ্জে চোরাই পাথর উদ্ধার অভিযানে রহস্য! জব্দের পরিমাণই জানেন না ইউএনও

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ · ১:০৪ এএম · ৪৪০ ভিউ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চোরাই পাথর উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত একটি অভিযানকে কেন্দ্র করে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও রহস্য দেখা দিয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দের দাবি করা হলেও, ঠিক কত পরিমাণ পাথর উদ্ধার করা হয়েছে—সেই তথ্যই জানাতে পারেননি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া। একই সঙ্গে জব্দকৃত এক ট্রাক ভাঙা পাথরের অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৩ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আস্ত ও ভাঙা পাথর জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। তবে এর পরদিন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাংবাদিকরা জব্দকৃত পাথরের সঠিক পরিমাণ জানতে চাইলে ইউএনও মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, “কত পরিমাণ পাথর উদ্ধার হয়েছে, তা আমার জানা নেই। কতটি ট্রাক বা ট্রাক্টরে পাথর আনা হয়েছে, সেটিও বলতে পারব না।”

অভিযান পরিচালনাকারী প্রধান কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও। এ সময় উপস্থিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মনাফ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুল জানান, একটি ট্রাক্টরে সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ ঘনফুট এবং একটি বড় হাইড্রলিক ট্রাকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট পাথর পরিবহন করা যায়। সেই হিসেবে উদ্ধারকৃত পাথরের পরিমাণ কয়েক হাজার ঘনফুট হওয়ার কথা।

সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শওকত আলী বাবুল বলেন, “অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানানো ইউএনওর দায়িত্ব ছিল। কেন তিনি তা জানাচ্ছেন না, সেটি বোধগম্য নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে জব্দকৃত পাথর বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে বিতরণের নজির রয়েছে।

সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, জব্দ করা অধিকাংশ পাথর উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে এনে রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযানে দুটি হাইড্রলিক ট্রাকে প্রায় ১,৫০০ ঘনফুট ভাঙা পাথর এবং ছয়টি ট্রাক্টরে প্রায় ১,২০০ ঘনফুট আস্ত পাথর জব্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় ট্রাক্টর আস্ত পাথর ও মাত্র এক ট্রাক ভাঙা পাথর কোয়ার্টারে রাখা হলেও, অপর একটি হাইড্রলিক ট্রাক ভর্তি ভাঙা পাথরের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এই নিখোঁজ হওয়া পাথরের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ইউএনও মোহাম্মদ রবিন মিয়া কোনো সদুত্তর বা তথ্য দিতে পারেননি।

উপজেলা প্রশাসনের এমন লুকোচুরির বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা বলেন, “ইউএনও কত গাড়ি পাথর জব্দ করেছেন, সেই তথ্য তাঁর অবশ্যই জানা থাকার কথা। কেন তিনি তা বলতে পারেননি, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অভিযানের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো আমাদের হাতে পৌঁছেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো যাবে।”

অভিযানে জব্দকৃত পাথরের প্রকৃত পরিমাণ গোপন করা, সরকারি কোয়ার্টারে তা সংরক্ষণ এবং মাঝপথ থেকে এক ট্রাক ভাঙা পাথর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জেলা প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই কেবল এই ‘পাথর রহস্যের’ জট খোলা সম্ভব।

সম্পর্কিত সংবাদ