সিলেট

কইনা জঙ্গলে টাস্কফোর্সের হানা, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ · ১:৩৩ এএম · ৩১৭ ভিউ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ইজারা বহির্ভূত লোনী এলাকার ‘কইনা জঙ্গল’ (কন্যা জঙ্গল) নামক স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে টাস্কফোর্স। অভিযানে বালু উত্তোলনের বিপুল সরঞ্জাম ধ্বংসসহ ১২ জন শ্রমিককে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে মূলহোতাদের অধরা থাকা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের খবর পেয়ে সটকে পড়েছেন প্রভাবশালী তিন বালু খেকো।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেনের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে লোনী এলাকার কইনা জঙ্গলে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করছিল একটি চক্র। এমন সংবাদের ভিত্তিতে টাস্কফোর্স সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ২টি বড় ড্রেজার মেশিন ও ৬টি বড় নৌকা ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এছাড়া বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ২৫টি পাইপ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় টাস্কফোর্স। এসময় অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে আটক ১২ শ্রমিককে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তবে অভিযানে সরঞ্জাম ধ্বংস ও শ্রমিকদের সাজা হলেও এই অবৈধ বালু বাণিজ্যের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ সিন্ডিকেটের মূলহোতা হলেন যুবদল নেতা জুবের আহমদ এবং বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ নেতা কামরুল ইসলাম ও খাইরুল ইসলাম। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তারা আগেই সটকে পড়েন। এই প্রভাবশালী চক্রটিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযান পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের দুটি চৌকস দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। জনস্বার্থ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক এবং যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ