সিলেট

কোম্পানীগঞ্জে উৎমা ছড়া থেকে কোটি টাকার ‘কালা পাথর’ জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ · ১২:০৩ এএম · ২৭৪ ভিউ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় লিজ বহির্ভূত উৎমা ছড়া পাথর কোয়ারি ও এর আশপাশে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করেছে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। অভিযানে কোয়ারি এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ১ লাখ ঘনফুট (৯৪,৩৯০ ঘনফুট) মূলবান ‘কালা পাথর’ জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।

১৩ জুলাই (সোমবার) দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত খনিজ সম্পদ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে উপজেলার সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযান সূত্র জানায়, উৎমা ছড়া কোয়ারি সংলগ্ন বনপুর, আদর্শ গ্রাম ও মাঝেরগাঁও বিজয়পাড়ুয়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে যথাক্রমে ৯৩,৭৯০ ঘনফুট এবং ৬০০ ঘনফুটসহ সর্বমোট ৯৪,৩৯০ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই বিশাল পাথরের স্তূপ বর্তমানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে এগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে ও মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজির বিনিময়ে রাতের আঁধারে উৎমা ছড়ার সরকারি পাথর পাচার করা হচ্ছিল। মিনি ট্রাক দিয়ে গভীর রাতে একটি সিন্ডিকেট বাহিনী এই অবৈধ পাথর লুটে নিচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, কোয়ারি থেকে প্রতি গাড়ি পাথর বের করার জন্য ‘দৈনিক লাইন’ বাবদ ৬ হাজার টাকা করে নেওয়া হতো, যার মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ বখরাবাজি বা চাঁদাবাজি চলছিল।

মূলত এই ধরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতেই খনিজ সম্পদ বিভাগ ঢাকা থেকে এসে সরাসরি উৎমা ছড়ায় এই আকস্মিক ও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। জব্দকৃত পাথরের বাজারমূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কোয়ারি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ছোট-বড় পাথর মিলিয়ে গড়ে প্রতি ঘনফুট ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে জব্দকৃত এই পাথরের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা হবে।

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান জানান, “জব্দকৃত পাথর বিধি মোতাবেক নিলামে তোলা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।”

তিনি আরও জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন। পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর টাস্কফোর্স অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সম্পর্কিত সংবাদ