হবিগঞ্জ

নবীগঞ্জে কোটি টাকার সম্পত্তি দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ · ১২:৫১ এএম · ১৮৬ ভিউ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে কোটি টাকার একটি পৈতৃক সম্পত্তির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, যার ফলে শহরবাসী বড় ধরনের সহিংসতা থেকে রক্ষা পায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের খনকারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং শহরের হাসপাতাল রোডস্থ খালিক মঞ্জিলের স্বত্বাধিকারী লন্ডন প্রবাসী মৃনাল চৌধুরী ও দিলাল চৌধুরীর সাথে তাদের আপন চাচা ছানু চৌধুরী এবং চাচাতো ভাই রাহেল চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

সম্প্রতি দিলাল চৌধুরী শেরপুর রোডস্থ ফুলকলি’র বিপরীত পাশে তাদের মালিকানাধীন কোটি টাকার ভূমির উপর একটি মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে ভবনের পিলারসহ নিচের লিন্টেলের কাজ শেষ করে দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছিল।

অভিযোগ উঠেছে, গত সোমবার রাতে ছানু চৌধুরীর মেয়ের জামাতা সারোয়ার আহমেদ জেসন দলবল নিয়ে ওই জায়গা নিজেদের দাবি করে সেখানে রাতের আঁধারে একটি টিনের চাপড়া (অস্থায়ী ঘর) নির্মাণ করেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে দিলাল চৌধুরীর নির্মাণ শ্রমিকরা কাজে গিয়ে ওই টিনের ঘরটি দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে মালিকপক্ষকে খবর দেন।

খবর পেয়ে দিলাল চৌধুরী এসে ওই অবৈধ চাপড়াটি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলে ছানু চৌধুরী, তার জামাতা জেসন এবং অপর চাচাতো ভাই গোলাম রসুল রাহেলের পক্ষে মবু মিয়া দলবল নিয়ে দিলাল চৌধুরীর লোকজনের উপর আকস্মিক হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে প্রাথমিক অবস্থায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ইটপাটকেলের কারণে তারা পিছু হঠতে বাধ্য হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এংরাজ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া বাকি আহত—রহমত মিয়া (৪৫), কুহিনুর চৌধুরী (৩৫), আতাউর চৌধুরী (৩২), ফয়সল মিয়া (২৮), লিপন মিয়া (৩৩), সারোয়ার আহমেদ জেসন (২৭) ও বন্ধন মিয়া (২২)-কে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

লন্ডন প্রবাসী দিলাল চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “আমি আমার পৈতৃক সম্পত্তিতে বৈধভাবে কাজ করাচ্ছিলাম। কিন্তু প্রতিপক্ষ ভাড়াটে লোকজন ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার এবং আমার নির্মাণ শ্রমিকদের উপর অন্যায়ভাবে হামলা চালিয়েছে।”

অন্যদিকে ছানু চৌধুরীর জামাতা সারোয়ার আহমেদ জেসন দাবি করেন, “আমার স্ত্রী ও শ্বশুরের সম্পত্তি উদ্ধারের জন্যই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের একটি টিনের ঘর সেখানে আগে থেকেই নির্মিত ছিল। তারা জোরপূর্বক তা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।”

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল হোসেন জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি তাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের অংশ। এই বিরোধীয় জায়গা দখল-বেদখল নিয়েই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে জায়গার প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

পত্রিকায় প্রকাশের জন্য প্রয়োজনে এই প্রতিবেদনের সাথে ঘটনাস্থলে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশের ছবি সংযুক্ত করা যেতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ