হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জে ঝোপের ভেতর থেকে ভেসে আসছিল কান্না

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রতিবেদক · বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ · ২:০১ এএম · ১৬২ ভিউ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক কন্যাশিশুটির স্থায়ী ঠিকানা ও অভিভাবক মিলেছে। উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক যাচাই-বাছাই শেষে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় এক নিঃসন্তান দম্পতিকে। আজ মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে মাধবপুর উপজেলার উত্তর শাহপুর এলাকায় জেলা পরিষদ সড়কের পাশে একটি ঝোপের মধ্যে কান্নার শব্দ শুনতে পান পথচারীরা। কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, একটি নবজাতক কন্যাশিশু সেখানে পড়ে আছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, শিশুটির শরীরে তখনও হাসপাতালের স্যালাইনের ক্যানুলা লাগানো ছিল। স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেক হৃদয়বান ব্যক্তি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটিকে একটি সেফ হোমে রাখা হয় এবং তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

আজ মঙ্গলবার মাধবপুর উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে উত্তর শাহপুর (নোয়াপাড়া) এলাকার ব্যবসায়ী জাবেদ আলী ও তাঁর স্ত্রীর কাছে আপাতত শিশুটিকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান জানান, শিশুটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত নিরাপদ পরিবেশে লালন-পালনের জন্য তাকে ওই দম্পতির কাছে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

শিশুটিকে হাতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জাবেদ আলী ও তাঁর স্ত্রী। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এই দম্পতি বলেন, আমরা কখনও তাকে পর মনে করব না। মহান আল্লাহর উপহার হিসেবে তাকে আমরা নিজেদের সন্তানের মতোই সর্বোচ্চ স্নেহ, ভালোবাসা এবং শিক্ষা দিয়ে বড় করে তুলব।

প্রশাসনের এই মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

সম্পর্কিত সংবাদ