রাজধানীর সবুজবাগ, খিলগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আনোয়ার হোসেন, বদিউজ্জামান শাহীন, মরিয়ম, শাহাদাত হোসেন ও উর্মী বেগম।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (দক্ষিণ) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ১৫ এপ্রিল একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা ঋণসংক্রান্ত কাজে রাজধানীর রামপুরার দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে যান। সেখানে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন এবং ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন। পরবর্তী কয়েকদিন মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ওই নারী ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
একপর্যায়ে ওই নারী বনশ্রী ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার প্রস্তাব দেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে অপর এক নারী ভুক্তভোগীকে রিসিভ করে রিকশাযোগে খিলগাঁওয়ের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
ডিবির দাবি, ফ্ল্যাটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর আরও চারজন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীকে মারধর করেন। এ সময় এক নারীকে সঙ্গে রেখে আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও উপায়ের মাধ্যমে মোট এক লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পাশাপাশি ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করলে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। গত ৩ জুলাই সবুজবাগ, খিলগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি এবং নগদ চার হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় ডিবি।
প্রাথমিক তদন্তে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পর্যালোচনায় একই কৌশলে একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের আলামত পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বা তাদের আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
