সিলেট

সিলেট টেস্টে মিডিয়া কার্ড নিয়ে হযবরল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · রাত ৩:৫৭ · ১৫৭ ভিউ

বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার আসন্ন টেস্ট ম্যাচ কাভার করতে সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড (মিডিয়া কার্ড) ইস্যু নিয়ে সিলেটে তৈরি হয়েছে জটিলতা ও অসন্তোষ। সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া বিভাগের সরাসরি আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাইয়ের পরিবর্তে স্থানীয় ক্লাবগুলোর মাধ্যমে ফরম বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্লাবপ্রতি মাত্র ১০টি করে আবেদন ফরম দেওয়ায় প্রতিনিধিত্বশীল গণমাধ্যমের সংখ্যা বিবেচনায় অনেক সাংবাদিক শুরুতেই আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সঙ্গে কার্ড বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিসিবি পরিচালক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর মাধ্যমে সিলেটের বিভিন্ন সাংবাদিক ক্লাবের কাছে ১০টি করে ৪০টি আবেদন ফরম পাঠানো হয়েছে। এসব ফরমের বিপরীতে সাংবাদিকদের মিডিয়া কার্ড ইস্যু করা হবে। ক্লাবগুলোকে আগ্রহী সাংবাদিকদের কাছ থেকে আবেদন নিয়ে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাঠাতে বলা হয়েছে। বিসিবির মিডিয়া বিভাগ বলছে, এটি তাদের বিভাগের সিদ্ধান্ত। স্থানীয় পরিচালকের সহযোগিতায় সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে।

এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ফরমের সংখ্যা নিয়ে। সিলেটের একটি সাংবাদিক ক্লাবের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি বলেন, তার ক্লাবের সঙ্গে প্রতিনিধিত্বশীল ৪৪টি গণমাধ্যম হাউসের সাংবাদিক যুক্ত রয়েছেন। অথচ তাদের জন্য দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০টি আবেদন ফরম। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন বলেন, আমাকে ১০টি ফরম দেওয়া হয়েছে। এখন এত গণমাধ্যমের মধ্যে কাকে দেব? আমি নিজেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেছি। কারো আবেদন নেওয়া হবে, কারো হবে নাÑ এমন পরিস্থিতি তৈরি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যারা আবেদন করবেন, তাদের সবার আবেদন গ্রহণ করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কার্ড দেওয়া উচিত ছিল।

একটি ক্লাবের প্রতিনিধির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ক্লাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম হাউসের সংখ্যা ৬৯। জাতীয় দৈনিকগুলোর অনেক পত্রিকা টেস্ট ম্যাচের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন কাভার করতে নিজস্ব সিলেট প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দিয়ে থাকে। স্থানীয় দৈনিক, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকরাও খেলা কাভার করতে আগ্রহী। সেখানে ৬৯টি গণমাধ্যমের বিপরীতে মাত্র ১০টি আবেদন ফরম দেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই বড় একটি অংশ আবেদন করার সুযোগ হারাবে।

ক্লাব দায়িত্বশীলদের প্রশ্ন, সাংবাদিক কে, কে প্রকৃতপক্ষে পেশাদার সাংবাদিকতা করছেন, কারা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধি এবং কারা নিয়মিত ক্রীড়া সাংবাদিকতা করেনÑ এসব যাচাই করার দায়িত্ব ক্লাবের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অর্থ কী? এ ধরনের যাচাই-বাছাই করার জন্য বিসিবির নিজস্ব মিডিয়া বিভাগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করলে তারাই যোগ্যতা ও পেশাগত পরিচয় যাচাই করতে পারত। কিন্তু সীমিতসংখ্যক ফরম দিয়ে ক্লাবগুলোকে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে বিসিবির মিডিয়া বিভাগের সহকারী ম্যানেজার আকবর হোসেন ভূইয়া রিমন বলেন, সব ক্লাবে থাকা প্রতিনিধিত্বশীল গণমাধ্যম হাউসগুলো যাতে কার্ড পায়, সে জন্য পরিচালকের মাধ্যমে ক্লাবগুলোর কাছে ১০টি করে আবেদনপত্র দেওয়া হয়েছে। সিলেট স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে ১০০ জন ধারণক্ষমতাকে সামনে রেখে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিসিবির একটি সূত্র জানায়, তাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্রে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনের ক্ষেত্রে মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যুর দায়িত্ব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলন, মিডিয়া রিলিজ এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খেলার মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যুসহ সংশ্লিষ্ট কাজ এ কমিটির দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। ফলে কার্ড ইস্যুর মূল দায়িত্ব বিসিবির হলেও আবেদন গ্রহণ ও প্রাথমিক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় ক্লাব এবং সিটি করপোরেশনকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্রীড়া সাংবাদিক ইহাইয়া ফজল বলেন, এ ধরনের জটিলতা এড়াতে বিসিবির উচিত ছিল শুরুতেই একটি উন্মুক্ত ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া ঘোষণা করা। বিসিবির ওয়েবসাইটে অথবা নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় আবেদন গ্রহণ করা যেত। আবেদনপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র, প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ, সাম্প্রতিক প্রকাশিত সংবাদ বা প্রতিবেদন এবং সাংবাদিকের দায়িত্বের বিবরণ চাওয়া যেতে পারত। ফটোসাংবাদিক ও টেলিভিশনকর্মীদের ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী আলাদা তথ্য নেওয়া সম্ভব ছিল।

সম্পর্কিত সংবাদ