সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তাঁর মা সালমা বেগম। দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি প্রধান আসামি সাবেক এসআই আকবরের দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী মামলাটির ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত মামলার প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। বাকি পাঁচ আসামির মধ্যে দুজনকে যাবজ্জীবন এবং তিনজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মামলার প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ আসামিরা পলাতক ছিলেন।
রায়ের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই। আসামিরা উপযুক্ত শাস্তি পেলে আমার ৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হবে। প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলালে আমরা শান্তি পাবো, রায়হানের আত্মাও শান্তি পাবে।”
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে (৩৪) বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেছিলেন। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত আকবর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও কানাইঘাটের দনা সীমান্তে ধরা পড়েছিলেন।
