সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে ৮৬ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি বিএনপির

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিবেদক · সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ · সন্ধ্যা ৭:৫২ · ১৭৩ ভিউ

সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ শহরের একটি হোটেলের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন, প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ৮৭ কোটি টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন, নিম্নমানের কাজ বাতিল এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় লালপুর-সালামপুর সেতুর দুটি অংশ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের জন্য ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন, নির্মাণসামগ্রীর মান ও কাজের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন আরও বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই একটি গার্ডওয়াল হেলে পড়েছে। এ ছাড়া ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, মাটি যথাযথভাবে কমপ্যাকশন না করা এবং ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব ও প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম দেখতে পান। পরে তিনি নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করে জেলা বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—প্রকল্পের ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ বাতিল, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্সের অন্যান্য প্রকল্পের কাজও তদন্ত করা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী, নাদীর আহমদ, অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, রেজাউল করিম, আকবর আলী, আ. ত. ম. মিসবাহ, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ লিলুসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সম্পর্কিত সংবাদ