সিলেট

প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গোলাপগঞ্জে ৪ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · রাত ৩:২১ · ১৮১ ভিউ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বরে জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই শুরু হয়েছে ৪ দিনব্যাপী ‘ভাদেশ্বর রঙিলা ফেস্ট’ নামের একটি মেলা। অনুমোদনহীন এ ধরনের বড় আয়োজনের ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৭টি স্টল বা প্রতিনিধি অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শিমুল ও মাহবুবার নেতৃত্বে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। অনুমতিহীন এই মেলা নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, মেলা মানেই উচ্চশব্দে গান-বাজনা আর বখাটেদের আনাগোনা। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মেলায় প্রশাসনের কোনো নজরদারি বা পুলিশি পাহারা না থাকায় আমাদের ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা চরম শঙ্কায় আছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে?

ভাদেশ্বর বাজারের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের কোনো বৈধ অনুমতি ও নিরাপত্তা তদারকি ছাড়া মেলা বসিয়ে বাইরের লোকজনকে আনাগোনা করার সুযোগ দিলে পুরো এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে আমাদের বাজারের দোকানপাট ও ব্যবসার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। কার স্বার্থে প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে এই আয়োজন করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও নিজেকে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া শিমুল আহমদ প্রশাসনের অনুমতি না নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মেলার জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাছাড়া মেলা করতে কোনো অনুমতি লাগে না। তবে তিনি দাবি করেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছিল, তবে ইউএনও কার্যালয় থেকে মেলা আয়োজনের ব্যাপারে কোনো অনুমতিপত্র এখনো আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছবেদ আলী বলেন, মেলার আয়োজনের অনুমতি আয়োজকরা উপজেলা প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এনেছেন কি না, তা আমার জানা নেই। মেলার অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার কেবল উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের। তিনি আরও জানান, মেলার বিষয়ে আমাকে আয়োজকরা অবিহিত করেন নি।

অনুমোদনহীন এই মেলার বিষয়ে জানতে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামনুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সম্পর্কিত সংবাদ