সিলেট নগরীর উত্তর বালুচর এলাকায় সাংবাদিক মো. বদরুর রহমান বাবরের ওপর হামলা, মারধর এবং টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে হযরত শাহপরান (র.) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার স্ত্রী পারুল বেগম।
শনিবার (৩০ আগস্ট) তিনি থানায় এ অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জোনাকী আবাসিক এলাকার মাসুক মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে হান্নানিয়া মসজিদে অনুদানের টাকা দিতে গিয়ে মসজিদটি বন্ধ দেখতে পান সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবর। পরে মসজিদের মোতাওয়াল্লি শাহ আলম মেম্বার ও ক্যাশিয়ার আলাউদ্দিনকে নিয়ে তিনি জোনাকী আবাসিক এলাকার মাসুক মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে বসে মসজিদের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
এ সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে এক ব্যক্তি সেখানে এসে সাংবাদিক বাবরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করেন এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি সাইবার মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি আরও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে তারা সাংবাদিক বাবরকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। এ সময় লোহার রড বা রুল দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হয়। আত্মরক্ষার জন্য সরে যাওয়ার সময় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তার ডান পায়ে লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
হামলার একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা প্রায় ৯ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই মোবাইল ফোন দিয়ে তার বুকে আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি তা প্রতিহত করে ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার পর আহত সাংবাদিককে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছড়ারপার এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে পুনরায় হামলার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পরে তারা নয়াসড়ক এলাকায় এক স্বজনের বাসায় আশ্রয় নেন। এরপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবর চিকিৎসা নেন।
অভিযোগকারী পারুল বেগম দাবি করেন, এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম, টিলা কর্তন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবরের অবস্থানের কারণে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পূর্ববিরোধ রয়েছে। এর আগে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনলাইনে হয়রানির অভিযোগে সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা, হযরত শাহপরান (র.) থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর পৃথক আবেদন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে ঘটনাস্থলের মোবাইল ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবর ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আবেদন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনজনকে নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
হযরত শাহপরান (র.) থানায় অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
