মৌলভীবাজার

বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, শাশুড়ি-ননদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

বড়লেখা প্রতিনিধি
বড়লেখা প্রতিনিধি
প্রতিবেদক · শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ · রাত ৮:৪৮ · ১৯৪ ভিউ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মরিয়ম আক্তার মুন্নী (২৩) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, মরিয়মকে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বড়লেখা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুড়িরগুল গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশীদ লাবলুর স্ত্রী। মরিয়ম উপজেলার বিওসি কেছরিগুল (ডিমাই) গ্রামের হাজী মকবুল আলীর মেয়ে।

মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে মরিয়মকে নির্যাতন করা হতো। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে মরিয়মের পাঠানো কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস রেকর্ড রয়েছে। এসব রেকর্ডে মরিয়ম তাঁর বাবার কাছে শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, মরিয়মের ঝুলন্ত লাশের নিচে একটি বালতি ও মগ পাওয়া গেছে। এ কারণে ঘটনাটি তাঁদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরিয়মের শাশুড়ি ও ননদকে আসামি করে হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরের দিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে সন্ধ্যায় বড়লেখা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

বড়লেখা থানার এসআই প্রলয় রায় শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মরিয়মের বাবা হাজী মকবুল আলী বলেন, “আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। সে আমাদের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছে। আমরা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছি। এ ঘটনায় মেয়ের শাশুড়ি ও ননদকে আসামি করে হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

তবে মরিয়মের পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সম্পর্কিত সংবাদ