দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ সম্পূর্ণ পুড়ে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফরেনসিক পরীক্ষা ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ঘটনাস্থলের দোকান মালিক আলমগীর হোসেন জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে নিহতদের মরদেহ দেখে কাউকে শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, “লাশ চেনার মতো কোনো অবস্থা নেই। সবগুলোই কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আলেম-ওলামা ও স্থানীয় কমিউনিটির পরামর্শ অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহগুলোর দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের স্বজনরা দ্রুত পরিচয় শনাক্ত, মরদেহ হস্তান্তর এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফীর নেতৃত্বে প্রথম সচিব তৌফিকুল ইসলামসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ, আইনগত সহায়তা এবং স্বজনদের সহযোগিতায় কাজ করছেন।
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দ্রুত ফরেনসিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, অগ্নিকাণ্ডে আহত জহিরুল ইসলামের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
