সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে অর্ধেক শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। এ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭২ হাজার ৯৫৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন। পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী।
দুপুরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াছমীন বোর্ড মিলনায়তনে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। গত বছর সিলেটে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬০২ জন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা বেড়ে ২০১০ সালে ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা করোনা মহামারির আগের সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাসের হার কমতে থাকে।
২০১৩ সালে ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে নেমে ২০১৯ সালে দাঁড়ায় ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশে। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭১ দশমিক ৬২, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৪০, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৮০, আর ২০২০ সালে শতভাগ, ২০১৯ সালে ৬৭ দশমিক ০৫, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭, ২০১৭ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ এবং ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এদিকে, গতকাল ফলাফল ঘোষণার পর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছেন এবং কোন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে- তা বিশ্লেষণ করা হবে। ফলাফলের এই অবনতির কারণ চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগও নেয়া হবে।
ডেঙ্গুতে অক্টোবরে সর্বোচ্চ মৃত্যু, পরিস্থিতির উন্নতি ডিসেম্বরের আগে নয়
ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীন। সকালে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ২১ বছরের মধ্যে এইবারই রেজাল্টে ধস নেমেছে। আপনারা যেটা বলছেন, আসলে আমি ওইভাবে বিশ্লেষণ করবো না, আমি ধসের কথা বলবো না। এবার যেটা হলো, যেমন আমরা এসএসসিতেও দেখেছি, আমাদের রেজাল্ট কিন্তু ওইভাবে ভালো হয়নি আর পরীক্ষার হলে বসলেই আমি পাস করবো, সেটা কিন্তু না। আমাদের বিভিন্ন ধরনের মানদণ্ড কিন্তু এখানে নির্ধারণ হচ্ছে। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজে আমাদের নানাভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনা এসেছে, বাচ্চাদের পড়াশোনা করতে হবে। অন্য বোর্ডের রেজাল্টের তুলনায় আমাদের সিলেট শিক্ষা বোর্ডের রেজাল্ট আলহামদুলিল্লাহ্ অনেক ইমপ্রুভড। গতবার কিন্তু অভিন্ন প্রশ্ন ছিল না। এবার অভিন্ন প্রশ্ন। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বিলকিস ইয়াছমীন বলেন, বাচ্চারাও পড়াশোনা করছে, বাচ্চারাও টেবিলমুখী হয়েছে, পড়ামুখী হয়েছে, কারণ মন্ত্রী মহোদয় ঘোষণা দিয়েছেন পড়তে হবে। সেই মোতাবেক আমাদের পরীক্ষক, নিরীক্ষক এবং হেড এক্সামিনার প্রত্যেকের যৌথ প্রচেষ্টাতেই কিন্তু একটা বাচ্চার রেজাল্ট হয়। আমরা বোর্ড কিন্তু কিছু জানি না, হেড এক্সামিনার, এক্সামিনার, নিরীক্ষক তিনজনের যৌথ কাজের মাধ্যমে কিন্তু একটা বাচ্চার রেজাল্ট প্রস্তুত হয়।
তিনি বলেন, এবার আমাদের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনিয়মিতরাই বেশি ছিল, অনেক বেশি অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল। আমাদের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কারণে রেজাল্টটা কিছুটা ডাউন হয়েছে। এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ১৯ হাজার ৭৬০ জন ছিল, পাস করেছে ৮ হাজার ৬৫১ জন। এদিকে, ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট নয় কলেজ অধ্যক্ষরা। তারা জানিয়েছেন, আরও ভালো করতে হলে শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নে মনোযোগী হতে হবে। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পরীক্ষা পদ্ধতিতে নানা বিষয় এসেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রে সিসিটিভি ফুটেজ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া, পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরাও আরও বেশি সচেষ্ট হয়েছে। এখন ভালো রেজাল্ট করতে হলে পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে বলে জানান তিনি।
