সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ফান্ড ও প্রবাসীদের অনুদানের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতিদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চারজন একই পরিবারের সদস্য হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের কোনো হিসাব না দিয়ে অর্থ তছরুপ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। অভিযোগপত্রে এলাকার ৪০ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও অভিভাবক স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে স্থানীয় শিক্ষার প্রসারে সর্বস্তরের জনগণের মতামত ও প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগিতায় মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে আবুল লেইছকে প্রধান শিক্ষক, আব্দুল খালিককে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং ফজল উদ্দিনকে যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি মনোনীত করে অস্থায়ী ভবনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে তারা স্থানীয় ও প্রবাসী ফান্ড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন খরচ দেখালেও অন্যান্য সদস্য বা এলাকাবাসীকে কোনো হিসাব দেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সভাপতি আব্দুল খালিক ফান্ডের কোনো হিসাব না দিয়ে গোপনে যুক্তরাজ্য পাড়ি জমান। এরপর তার ভাতিজা শামছুল ইসলাম শামীম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ দখল করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ জুন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আবুল লেইছও গোপনে কানাডায় পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক মো. বশির মিয়াকে দায়িত্ব দিয়ে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনার জন্য বৈঠকের আহ্বান জানালে অভিযুক্তরা কৌশল অবলম্বন করে তা ভণ্ডুল করে দেয়। সবশেষে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের কোনো হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে ফান্ডের প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত শামছুল ইসলাম শামীম, সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল লেইছ, সাবেক সভাপতি আব্দুল খালিক এবং ফজল উদ্দিন—পরস্পর একই পরিবারের সদস্য হওয়ায় তারা মিলেমিশে বিদ্যালয়ের বিশাল অংকের তহবিল তছরুপ করেছেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল রাখতে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট এলাকাবাসী এক সাধারণ সভা ডেকে প্রবাসীদের পুনরায় সহায়তায় নতুন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে অপহৃত ফান্ড উদ্ধার ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ।
তাছাড়া অভিযোগের অনুলিপি জমা দেওয়া হয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং জেলা শিক্ষা অফিসার, সিলেট বরাবর।
এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত দ্বায়িত্ব ওসমানিনগর) মেরিনা দেবনাথ জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
