হবিগঞ্জ

স্বামীর খোঁজে ভারতে থেকে বানিয়াচঙ্গে তরুণী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ · রাত ৮:৫৩ · ১৭০ ভিউ

বাংলাদেশি পরিচয় গোপন করে ভারতের এক খ্রিস্টান তরুণীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে, এরপর স্ত্রীর নামে ব্যাংকঋণ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে মিজান মিয়া (২৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্বামীর খোঁজে ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে ভারতের নাগরিক সিতারা নামের ওই তরুণী এখন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে অবস্থান করছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত মিজান মিয়া বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের চানপুর বন্দের বাড়ি এলাকার বীমা তাহের মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মিজান মিয়া দীর্ঘদিন ভারতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে সিতারা নামে এক খ্রিস্টান তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে সিতারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মিজানকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই মিজান তার স্ত্রীর নামে ভারতের এক্সিস ব্যাংক থেকে কয়েক ধাপে ৩ লাখ ৮৩ হাজার রুপি ঋণ নেন। ঋণের টাকা নেওয়ার পর বাবার বাড়িতে দেখা করার কথা বলে তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন। দীর্ঘসময় পার হলেও মিজানের কোনো খোঁজ না পেয়ে সিতারা দুশ্চিন্তায় পড়েন।

পরে ভারতে কর্মরত বানিয়াচংয়ের এক শ্রমিক সাইদুর রহমানের মাধ্যমে সিতারা জানতে পারেন, মিজান কলকাতার বাসিন্দা নন, বরং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। এরপর ঠিকানা সংগ্রহ করে সিতারা সরাসরি বাংলাদেশে স্বামীর বাড়িতে ছুটে আসেন।

সিতারা অভিযোগ করে বলেন, ‘মিজান আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে পরিচয় গোপন করে আমাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর আমার নামে মোটা অংকের ঋণ নিয়ে সে পালিয়ে এসেছে। এখন ঋণের কিস্তির জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি স্বামী ও ন্যায়বিচারের আশায় বাংলাদেশে এসেছি।’

এ বিষয়ে ভারতে মিজানের সঙ্গে কাজ করা সাইদুর রহমান বলেন, ‘মিজানের সঙ্গে সিতারার বিয়ের বিষয়টি সত্য। তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকঋণ নেওয়ার ঘটনাটিও আমার জানা আছে।’

স্থানীয়রা জানান, সিতারা বানিয়াচং আসার পর থেকেই অভিযুক্ত মিজান বাড়িতে নেই। তার পরিবারের সদস্যরাও ওই তরুণীকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেছেন। স্থানীয়ভাবে শোনা যাচ্ছে, মিজান ফের বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ অবস্থায় সিতারাকে আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মিজান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

ভুক্তভোগী সিতারা জানান, তিনি এখন নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ