প্রবাস

যুক্তরাজ্য থেকে স্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ

সিলেটে প্রবাসীর সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা জমজম বাংলাদেশ’র

এম আলী হোসেন
এম আলী হোসেন
লন্ডন প্রতিনিধি · মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · বিকেল ৪:৪৮ · ২৯০ ভিউ

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া পুষ্পায়ন এলাকার একটি কোটি টাকার পারিবারিক বাড়ি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জমজম বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা মঈনউদ্দীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নুরুল ইসলাম নামের এক গুরুতর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ‘সদকায়ে জারিয়া’র প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িটি হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী জাহেদা ইসলাম।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মঈনউদ্দীন চৌধুরীকে বিবাদী করে সিলেটের আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন সিলেট জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সামসুজ্জামান জামান।

যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে জাহেদা ইসলাম জানান, তাঁর স্বামী নুরুল ইসলাম দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর অসুস্থ এবং অক্ষম (ডিসএবল)। ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়া নুরুল ইসলাম স্মৃতিভ্রম, অতিরিক্ত রাগ, কথায় জড়তা এবং ক্ষণে ক্ষণে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার মতো জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত। তিনি পড়তে বা লিখতেও অক্ষম। দীর্ঘ দুই দশক ধরে যুক্তরাজ্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর (ওয়েলফেয়ার বেনিফিট) ওপর নির্ভরশীল থাকায় তাঁর পক্ষে এককভাবে সম্পদ গড়া সম্ভব ছিল না। শিবগঞ্জের পুষ্পায়ন এলাকার বাড়িটি পুরো পরিবারের সম্মিলিত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা একটি সম্পদ।

জাহেদা ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন জেনেও চ্যারিটি সংস্থা ‘জমজম বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা মঈনউদ্দীন চৌধুরী যুক্তরাজ্যে তাঁদের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে নুরুল ইসলামকে ‘সদকায়ে জারিয়া’র কথা বলে মগজধোলাই করে পরিবারের অজান্তে সম্পূর্ণ কাগজপত্র প্রস্তুত করে কোটি টাকার সম্পদটি হস্তান্তরের পাঁয়তারা চালান। একজন জটিল মানসিক রোগীর পরিবারের সম্মতি ছাড়া এমন সম্পদ নেওয়ার চেষ্টা সুস্পষ্ট জালিয়াতি ও প্রতারণা বলে তিনি দাবি করেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে মঈনউদ্দীন চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জাহেদা ইসলাম বলেন, মঈনউদ্দীন সাহেব দাবি করেছেন আমার স্বামী সুস্থ এবং আমি নাকি ৯ বছর ধরে তাঁর থেকে আলাদা থাকি—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মানসিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে ও যুক্তরাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের নিরাপত্তা বিধিমালার অংশ হিসেবে ২০২৫ সাল থেকে স্বামীর নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা একই বাড়িতে আলাদা থাকছি। মঈনউদ্দীন সাহেবকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, তিনি যুক্তরাজ্যে এসে প্রমাণ করুন তাঁর দেওয়া তথ্য সত্য।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মঈনউদ্দীন চৌধুরী তাঁর অসুস্থ স্বামীকে নিয়মিত প্রভাবিত করে ফেসবুক লাইভ ও ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে সম্পদটি স্বেচ্ছায় দান করা হচ্ছে বলে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন। সন্তান ও পরিবারের অস্তিত্ব ভুলিয়ে দিয়ে একজন অসুস্থ মানুষকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নাটক সাজানো হচ্ছে।

বিবৃতির শেষে জাহেদা ইসলাম বলেন, দিনরাত পরিশ্রম করে সন্তানদের নিয়ে আমরা যে স্বপ্নের বাড়ি গড়ে তুলেছিলাম, এক চ্যারিটি প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত লোভের কাছে তা হারিয়ে যেতে দেব না। আমার স্বামী ও সন্তানদের অধিকার রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দেশবাসী এবং প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।

সম্পর্কিত সংবাদ