হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবাজার এলাকার বাসিন্দা ওহি দেওয়ান চৌধুরীর মেয়ে লাবিবা চৌধুরী (১৫) নামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, ঘটনাটি অপহরণ নয়; প্রেমের টানে এক আত্মীয়ের সাথে সে স্বেচ্ছায় চলে গেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হিরা মিয়া গার্লস হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী লাবিবা চৌধুরী গত রবিবার সকাল ৯টায় স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। স্কুল ছুটির পর দীর্ঘ সময় অতিক্রম করলেও সে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে সোমবার সকালে নিখোঁজের মা ফাহিমা চৌধুরী নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা ওহি দেওয়ান চৌধুরী আকুল কণ্ঠে বলেন, মেয়েকে নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্নতায় দিন কাটাচ্ছি। কোনো দুষ্কৃতকারী চক্র তাকে অপহরণ করে থাকতে পারে বলে আমার ধারণা। মেয়েকে ফিরে পেতে আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন জানান, আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি যে মেয়েটি অপহৃত হয়নি। সে তার এক আত্মীয়ের (সম্পর্কে খালাতো ভাই) সাথে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা তার পরিবার ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি। সেখানে স্থানীয়রা তাদের গতিবিধি দেখে সাময়িকভাবে ধরে ফেলেছিল। তবে পরবর্তীতে তারা কৌশলে সেখান থেকেও আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের উদ্ধারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্র তানজিদ আহমদ (১৬) এবং নবীগঞ্জের নবম শ্রেণির ছাত্রী লাবিবা (১৫)-কে জগন্নাথপুরের ইসহাকপুর আল-জান্নাত এলাকায় একটি টমটমে একসাথে দেখা যায়।
তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সে সময় তারা নিজেদের ভাই-বোন পরিচয় দেয়। কয়েকজন তরুণ তাদের ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে স্কুলছাত্রী বাধা প্রদান করে এবং একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তারা সেখান থেকে সটকে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা পরস্পর আত্মীয়।
রবিবার রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত দুজনের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উভয় পরিবারই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করে তাদের সন্ধানের জন্য পোস্ট দেয়। বর্তমানে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
