সিলেট

ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টা না মানার ‘প্রমাণ পেল’ দুদক

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · রাত ৯:০০ · ১৮৯ ভিউ

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়া এবং কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতাল ত্যাগের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে গত ৩০ দিনের বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য, ডিউটি রেজিস্টার ও ছুটিসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের বিশেষ দল।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদকের বিশেষ দল হাসপাতালটিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও কর্মঘণ্টা পালনের বিষয়টি যাচাই করা হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া দুদক সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গত ৩০ দিনের চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিউটি রেজিস্টার ও ছুটিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নথি ও সরেজমিনে উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনা করে চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে দায়িত্ব পালন করছেন না বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

অভিযানকালে দুদক টিম হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানও পর্যবেক্ষণ করে। রোগীরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পাচ্ছেন কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমদ বলেন, চিকিৎসকদের হাসপাতালে উপস্থিতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও কিছু তথ্য বুধবার পাওয়ার কথা রয়েছে। সব তথ্য বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে ঢাকার কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। এরপর ঢাকা কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে থাকা চিকিৎসকদের সরকার নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্ধারিত কর্মঘণ্টার মধ্যে কেউ ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসাসেবা বা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত ১ আগস্ট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের হাসপাতালে প্রবেশের সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিট নির্ধারিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়ার কথা জানানো হয়।

বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে, নির্ধারিত প্রস্থানের সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের প্রবণতাও বেশি বলে ওই তথ্য থেকে উঠে আসে। এতে দেখা যায়, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন।

এবার দুদকের অভিযানে সংগৃহীত বায়োমেট্রিক তথ্য ও অন্যান্য নথিপত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ