সিলেট

‘জাহাজ বিল্ডিংয়ে’ অপরাধ চলতে দেওয়া হবে না, কঠোর হুঁশিয়ারি জামানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১০:০৫ · ৩৬২ ভিউ

সিলেট নগরের টিলাগড় পয়েন্টসংলগ্ন কালাশিল আবাসিক এলাকার দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ‘জাহাজ বিল্ডিং’ ঘিরে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাদ মাগরিব ভবনটিতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে বৃহত্তর টিলাগড় পঞ্চায়েত কমিটি ও শাহপরান থানা পুলিশ।

অভিযানে বৃহত্তর টিলাগড় পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, পঞ্চায়েত কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শাহপরান থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে ভবনের ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও দরজা-জানালাহীন ভবনটি রাতের আঁধারে মাদকসেবী ও অপরাধীদের আনাগোনার স্থানে পরিণত হয়েছে।

বৃহত্তর টিলাগড় পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান বলেন, কালাশিল একটি আবাসিক এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ‘জাহাজ বিল্ডিং’টি নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। দরজা-জানালা না থাকায় ভবনটি অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, “এখানে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয় বলে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পঞ্চায়েত কমিটির কাছে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।”

অভিযোগ পাওয়ার পর শাহপরান থানাকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে উল্লেখ করে সামসুজ্জামান জামান বলেন, “পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ভবনটি পরিদর্শন করেছি। ভবনের প্রত্যেকটি দরজা-জানালা নেই। পরিত্যক্ত ও অন্ধকার হওয়ায় এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা, মাদক কেনাবেচা ও নানা ধরনের অপকর্মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের পর থেকে এখানে পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে আমরা আশা করছি। শাহপরান থানার সঙ্গে সমন্বয় করে পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ থেকে ভবনটির সব প্রবেশমুখ বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

অপরাধীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এসব অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযানে থাকা শাহপরান থানার এসআই সাজ্জাদ বলেন, “আমরা প্রায়ই এখান থেকে অনেক লোককে আটক করে নিয়ে যাই। এখানে কেউ মাদক বিক্রি বা ক্রয় করতে এলে কিংবা মাদকসহ আটক হলে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কেউ মাদকসহ আটক হওয়ার পর যেন তদবির করতে না আসেন। আমরা আইনের গতিতে আইন প্রয়োগ করতে চাই। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এসআই সাজ্জাদ জানান, শাহপরান থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। ভবিষ্যতে ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ বিশেষভাবে খেয়াল রাখবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ভবনটি ঘিরে নানা অভিযোগ থাকলেও এবার পঞ্চায়েত কমিটি ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন। ভবনটির সব প্রবেশপথ বন্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে ‘জাহাজ বিল্ডিংয়ে’ মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবহার বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য বা অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ