সিলেট

৬০ লাখ টাকা নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর কথা, সিলেটে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ১

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ · রাত ৯:২৯ · ১৯৮ ভিউ

সিলেটের গোলাপগঞ্জে যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতের ভিসায় লোক পাঠানোর কথা বলে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কয়েছ আহমদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯। তিনি মামলার এজাহারনামীয় চার নম্বর আসামি।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের রায়গড় পুরান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (১৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব-৯।

গ্রেফতার কয়েছ আহমদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার ময়নুল হকের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার গৌরাবাড়ি এলাকার মো. আব্দুল আহাদ (৫৯) ও মামলার অভিযুক্তরা পরস্পর আত্মীয়। বেকার সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা খাতের ভিসায় লোক পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তদের কথায় বিশ্বাস করে আব্দুল আহাদ তার ছেলে আব্দুল আহসান সুহেদকে ৪০ লাখ টাকা খরচ করে যুক্তরাজ্যে পাঠান। এতে অভিযুক্তদের প্রতি পরিবারের আস্থা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে আরও দুই ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা তাদের স্বাস্থ্যসেবা খাতের ভিসায় পাঠাতে ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চার থেকে ছয় মাস সময় লাগবে বলে জানান। এরপর ২০২৩ সালের ১৮ মে থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে মোট ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও ভিসা প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন অভিযুক্তরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, অভিযুক্তদের যোগসাজশে রিমি বেগম নামে এক ব্যক্তির দেওয়া কাগজপত্র জাল ও ভুয়া। পরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা টাকা ফেরত না দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আব্দুল আহাদ গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ সদর কোম্পানির একটি দল রোববার রাতে রায়গড় পুরান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েছ আহমদকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার কয়েছ আহমদের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ