সুনামগঞ্জ

দোয়ারাবাজারে ৫০ হাজার টাকায় শ্বশুর ‘হত্যার চুক্তি’

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিবেদক · রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১০:৩৯ · ১৬৬ ভিউ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বসতভিটার জমি পুত্রবধূ ও ছেলের নামে লিখে না দেওয়ায় মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। দাফনের প্রস্তুতিকালে লাশের মুখে রক্তের চিহ্ন ও গলায় কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা মামলায় ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিহত মোহাম্মদ আলীর পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮), হাবিবনগর গ্রামের রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলাম (২০)। পুলিশের দাবি, হোসনা বেগম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। আর রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পুত্রবধূর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের কারণে মোহাম্মদ আলী নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে তিনি নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন শনিবার সকালে স্বজনেরা তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর মুখে রক্তের চিহ্ন ও গলায় কালো দাগ দেখতে পান স্থানীয়রা। এতে তাঁদের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, মামলার পর হোসনা বেগমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দেন। এজাহার ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমি পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও তাঁর সৌদি আরবপ্রবাসী স্বামী ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে দেওয়া নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, জমি লিখে না দেওয়ায় শ্বশুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হোসনা বেগম। এ জন্য দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তি করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যার রাতে ঘরে প্রবেশের সুবিধার্থে পেছনের দরজা খুলে রাখা হয়। পরে রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত মোহাম্মদ আলীকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

সম্পর্কিত সংবাদ