সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নিজের দুই শিশু সন্তানকে ঘোরানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে পানিতে ফেলে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড বাবার বিরুদ্ধে। নিহত দুই শিশু হলো—মোহাদ্দিছ (৭) ও তুলনা আক্তার (৪)। এ ঘটনায় ঘাতক পিতা কামরুল জামান ওরফে কামরুল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিহত শিশুদের মা আফরোজা বেগম বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কামরুল জামান পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। প্রায় ১০ বছর আগে আফরোজা বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে সন্তানদের শাসন-অনুশাসন নিয়ে কামরুলের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মনোমালিন্য চলছিল। এর জের ধরে গত ৭ আগস্ট (শুক্রবার) কামরুল জামান কাউকে কিছু না জানিয়ে দুই সন্তান মোহাদ্দিছ ও তুলনাকে ঘোরানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১০ আগস্ট কামরুল একা বাড়িতে ফিরে এলে পরিবারের চাপের মুখে তিনি সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, গত ৯ আগস্ট রাতে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় চার বছরের মেয়ে তুলনা আক্তারকে বাস থেকে নামিয়ে পানিতে ফেলে ডুবিয়ে হত্যা করেন। এরপর অন্য একটি বাসে করে সুনামগঞ্জ সদরের গোবিন্দপুর এলাকায় গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় সাত বছরের ছেলে মোহাদ্দিছকেও পানিতে ফেলে দেন।
খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ পৃথক স্থান থেকে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে মা আফরোজা বেগম মরদেহ দুটি শনাক্ত করেন এবং ময়নাতদন্ত শেষে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাবা নিজেই তার দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে পৃথক স্থানে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল জামানকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত চলছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
