সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে চেলানদীর শাখা চৈলতার ঢালা থেকে অবৈধভাবে নদী ও নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) অনুযায়ী দায়ের করা এ মামলাকে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর ও পাড়াপুঞ্জি মৌজার অন্তর্গত ১ নম্বর ওয়ার্ডের রহমতপুর, আলমপুর ও কাজিরগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত চেলানদীর শাখা চৈলতার ঢালা এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনে দেখা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী ও নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।
তদন্তে জানা যায়, গত ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীতীরের স্থিতিশীলতা, পরিবেশ ও স্থানীয় প্রতিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, “নদী ও পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো অবৈধ কার্যক্রমকে ছাড় দেওয়া হবে না। চেলানদীর শাখা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ধারা ৬(ঙ), ১২ ও ১৫(১) অনুযায়ী বিচার প্রার্থনা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চেলানদীর শাখায় অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন, কৃষিজমির ক্ষতি এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছিল। তাদের মতে, পরিবেশ অধিদপ্তরের এই আইনগত পদক্ষেপ নদী রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
