নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের সোনাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত শনিবার (১৩ জুন) একুশে সিলেট-এ ‘ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলন: নৌ পুলিশ ও থানার ‘ঠেলাঠেলি’তেই পার পাচ্ছে অপরাধীরা!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) অভিযান পরিচালনা করে ছাতক নৌ পুলিশ। অভিযানে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালুবাহী একটি নৌকা আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সোনাই নদী থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একুশে সিলেট-এর অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিনের নির্দেশে নৌ পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের খবর পেয়ে কয়েকটি নৌকা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করলেও একটি বালুবাহী নৌকা আটক করতে সক্ষম হয় নৌ পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, নদীতে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত অধিকাংশ নৌকা শ্রমিকদের নিজস্ব নয়; সেগুলো ভাড়া করে আনা হয়। প্রভাবশালী চক্র বোমা মেশিন ও বালতি দিয়ে শ্রমিকদের বালি উত্তোলণ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সোনাই নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালুর বিপরীতে ‘রয়্যালটি’ নামে অর্থ আদায় করে একটি প্রভাবশালী চক্র। তাদের দাবি, এই চক্রের কারণেই সাধারণ মানুষ অবৈধ বালু উত্তোলনে উৎসাহিত হচ্ছে। তারা রয়্যালটির নামে অর্থ আদায়কারীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ছাতক নৌ পুলিশের ইনচার্জ জানান, ‘গত রাতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে সোনাই নদী থেকে একটি স্টিলের নৌকা এবং নৌকায় থাকা প্রায় ৪০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এ ঘটনায় ছাতক থানায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় মামলা নং-২৭, তারিখ ১৭/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় তিনজন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী এএসআই শফিক মিয়া এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এসআই জয়ন্ত চন্দ্র দেব।
মামলার আলামত হিসেবে ৪০০ ঘনফুট বালু এবং একটি স্টিলের তৈরি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
‘বৈধ লিজ না থাকা সত্ত্বেও যারা রয়্যালটির নামে অর্থ আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশ কী ব্যবস্থা নেবে?’— এমন প্রশ্নের জবাবে নৌ পুলিশের ইনচার্জ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। রয়্যালটির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a Reply