সিলেট

থানায় অভিযোগ দায়ের

সিলেটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ঘুষিতে ফেটে গেল অসুস্থ কিশোরের কানের পর্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ · রাত ১০:০৫ · ১৬৪ ভিউ

সিলেট নগরীর হাওলাদারপাড়া এলাকায় স্বপ্নীল দাস নীরব (১৩) নামে এক অসুস্থ কিশোরকে নির্মমভাবে মারধর করে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মিন্টু পাল মন্টুর (৫০) বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, ঘটনার প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী কিশোরের দিনমজুর পরিবারকে হত্যা করে লাশ গুম ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় কিশোর নীরবকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) অভিযুক্ত মিন্টু পালের বিরুদ্ধে নগরীর জালালাবাদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা সুবল কুমার দাস।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর সুবল কুমার দাসের একমাত্র ছেলে নীরব দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক রক্তশূন্যতাজনিত জটিল রোগে ভুগছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বয়স ১৩ হলেও তাকে স্কুলে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি; চিকিৎসকের পরামর্শে সবসময় তাকে চোখে চোখে রাখা হতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে নীরব বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে হাওলাদারপাড়াস্থ মাহিনের অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে গেলে অভিযুক্ত মিন্টু পাল তার গতিরোধ করেন। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন তিনি।

একপর্যায়ে মিন্টু পাল কিশোর নীরবের বাঁ কানে সজোরে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারেন। এতে কান ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং কানের পর্দা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া শিশুটির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিশোরের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে প্রাণে রক্ষা পায় সে। খবর পেয়ে মা সুবর্ণা রানী দাস ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে গেলে তাঁকেও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন অভিযুক্ত মিন্টু।

ভুক্তভোগীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি দিনমজুরি করে অনেক কষ্টে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাই। এমন একটি দুর্বল শিশুর ওপর কীভাবে মানুষ হাত তুলতে পারে! হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আঘাতের কারণে ওর কানের পর্দা ফেটে গেছে। ঘটনার পর আমরা থানায় যেতে চাইলে পুরো পরিবারকে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে মিন্টু পাল। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল হাবিব জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) সিটিএসবির প্রধান মো. আফজাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ