সিলেট

বিয়ানীবাজারে এইচএসসিতে অর্ধেকের বেশি অকৃতকার্য, জিপিএ-৫ মাত্র ৪

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ · রাত ১০:৩৬ · ১৬১ ভিউ

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ১১২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ১২৪ জন। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র চারজন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১৪ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন শিক্ষার্থী।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ফলাফলে পিছিয়ে পড়েছে উপজেলার কলেজগুলো। অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে ১ হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৮০২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৪৮২ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন শিক্ষার্থী।

বিয়ানীবাজার মহিলা কলেজ থেকে ৩১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ২১৫ জন। পাসের হার ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

বৈরাগীবাজার কলেজ থেকে ১৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬০ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৮৯ জন। পাসের হার ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

দুবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৩৯ জন। পাসের হার ৩০ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সৈয়দ নবীব আলী কলেজ থেকে ২০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৪০ জন। পাসের হার ৩২ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

বিয়ানীবাজার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫৯ জন। পাসের হার ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিয়ানীবাজারের একমাত্র আলিম পরীক্ষা কেন্দ্র বিয়ানীবাজার সিনিয়র মাদ্রাসায় উপজেলার ছয়টি মাদ্রাসার ১৮৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১৪ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে দাসউরা সিনিয়র মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থী। ফলাফলের দিক থেকে মাদ্রাসাটির অবস্থান উপজেলায় প্রথম। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিয়ানীবাজার সিনিয়র কামিল মাদ্রাসা।

সামগ্রিক ফলাফলে এইচএসসি পর্যায়ে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় উপজেলার শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ