পর্যটন

পর্যটন জেলার তকমা পেলেও ১৮ বছর ধরে গেজেটহীন মৌলভীবাজার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · রাত ৯:১৭ · ৩৭১ ভিউ

চা-বাগান, পাহাড়, হাওর, বন আর ঝরনা প্রকৃতির নানা রূপে সাজানো মৌলভীবাজার। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর কিংবা শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান প্রতিবছরই এসব জায়গায় ছুটে যান দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা। অথচ পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা এই জেলাকে ‘পর্যটন জেলা’ ঘোষণার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘোষণার কোনো সরকারি গেজেট এখনো প্রকাশিত হয়নি।

ফলে মৌলভীবাজারের পর্যটন উন্নয়ন এখনো বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সংরক্ষিত বনাঞ্চল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্ককেন্দ্রিক উন্নয়ন হলেও পুরো জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়।

২০০৮ সালের ১ জুলাই ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ রোড শো উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শফিক আলম মেহেদী মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর প্রায় দুই দশক পার হলেও ওই ঘোষণার আনুষ্ঠানিক ভিত্তি হিসেবে কোনো গেজেট প্রকাশ হয়নি।

জেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, পর্যটন জেলা হিসেবে মৌলভীবাজারকে গড়ে তুলতে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়। সেখানে জেলার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও পর্যটন সম্ভাবনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।

প্রস্তাবে বলা হয়, মৌলভীবাজারের চা-বাগান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পাহাড়-টিলা, হাওর-বাঁওড়, ঝরনা, নদ-নদী ও জীববৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। এ জন্য জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি মণিপুরি ও খাসিয়া পল্লি, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর এবং চা-বাগানগুলোকে পরিকল্পনার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল। পর্যটকদের জন্য আবাসন, বিনোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছিল ওই প্রস্তাবে।

তবে সেই প্রস্তাবের পর পর্যটন জেলা হিসেবে মৌলভীবাজারের জন্য কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, তার দৃশ্যমান চিত্র খুব একটা নেই।

মৌলভীবাজারের পর্যটনের বড় শক্তি হলো একই জেলায় পাহাড়, বন, হাওর ও চা-বাগানের বৈচিত্র্য। শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ও লাউয়াছড়া থেকে কমলগঞ্জের মণিপুরি সংস্কৃতি, বড়লেখার মাধবকুণ্ড এবং হাকালুকি হাওর প্রতিটি এলাকাই আলাদা ধরনের পর্যটন আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

কিন্তু এসব স্থানের মধ্যে পর্যটন যোগাযোগ, পথনির্দেশনা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত আবাসন ও বিনোদনের ব্যবস্থা এখনো পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন হলেও জেলার পর্যটন খাত একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আসেনি।

জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাবেল বলেন, ‘আমি এখানে যোগদান করার পর মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার কথা শুনছি। কিন্তু এখনো কোনো গেজেট হাতে পাইনি আমি।’

সম্পর্কিত সংবাদ