সুনামগঞ্জ পৌর শহরে দীর্ঘদিন ধরে চলা চুরির আতঙ্কের অবসান ঘটিয়ে আন্তঃজেলা চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোন, রৌপ্য অলঙ্কার, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ মূল্যবান মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম শাহীন মিয়া (২৫)। সে সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়া (নদীর পাড়) এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই গভীর রাতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শাহীন মিয়াকে কিছু চোরাই মালামালসহ আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন নোয়াগাঁও এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আরও প্রচুর মালামাল ও চুরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য দুই সদস্য আলী হোসেন (২৭) ও নবীনুর (৩০) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
অভিযানে উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে—একটি আইফোন, স্যামসাং, হুয়াওয়ে, নকিয়াসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮টি মোবাইল ফোন, ১টি হিকভিশন ডিভিআর (রেকর্ডার), ২ুটি বাওফেং ওয়্যারলেস সেট, ১টি হাতকড়া (হ্যান্ডকাফ), ১০০ মিটার ইন্টারনেট ক্যাবল, ১টি রূপার চেইন ও ১টি ব্রেসলেট। এছাড়া বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সবুজ রঙের সিএনজিচালিত অটোরিকশা (চ্যাসিস নং- PM7860100137) জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মোট মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, সুনামগঞ্জ শহরে সম্প্রতি চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ অত্যন্ত তৎপর ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা এই চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তার সহযোগীদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ ছিল শহরবাসী। এই চক্রের সদস্য আটক এবং মালামাল উদ্ধারের খবরে স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
