সুনামগঞ্জ

ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ রেললাইন এখন উন্মুক্ত ডাম্পিং স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ · ৭:৩৪ পিএম · ১৮৭ ভিউ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পুরো এলাকা এখন উন্মুক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক, পলিথিন, পচনশীল বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনার স্তূপে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য যেমন হুমকির মুখে পড়েছে, তেমনি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রেললাইনের দুই পাশজুড়ে জমে থাকা আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানি ও ময়লা-আবর্জনা একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ, গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং গোবিন্দনগর ফজলিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে যাতায়াতের সময় তাদের দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রেললাইন এলাকাটি অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার স্থানে পরিণত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পরিবেশ দূষণ এবং মশার প্রজনন। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভবিষ্যতে রেললাইন এলাকায় যাতে কেউ বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, গোবিন্দগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের পরিবেশ দূষণ শুধু এলাকার সৌন্দর্যই নষ্ট করছে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেললাইন সংলগ্ন এলাকা পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ