সর্বশেষ :
জাফলংয়ে যুব সমাজের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক এক, পুলিশের কাছে সোপর্দ জামালগঞ্জে ৫ বছর ধরে রাস্তার পাশে ঝুপড়িতে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন সুরঞ্জিত হত্যা চেষ্টা মামলার রায়: একজনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস বাবর-আরিফ-গৌছ সোনাই নদীতে আইনি দুর্বলতায় পার পেয়ে যাচ্ছে বালুখেকোরা, কার্যকরের তাগিদ ‘মোবাইল কোর্ট’ সিলেটে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ ডিসি সারওয়ার আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন যুক্তরাজ্যের হাল এন্ড ইস্ট রাইডিং যুবদলের সভাপতি হলেন সিলেটের গোলাম রাব্বি শাল্লায় হাওর রক্ষা বাঁধের টাকা না পেয়ে বিপাকে কৃষকরা জৈন্তাপুরে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় কম্বল জব্দ, গ্রেফতার ২

সোনাই নদীতে আইনি দুর্বলতায় পার পেয়ে যাচ্ছে বালুখেকোরা, কার্যকরের তাগিদ ‘মোবাইল কোর্ট’

সোনাই নদীতে আইনি দুর্বলতায় পার পেয়ে যাচ্ছে বালুখেকোরা, কার্যকরের তাগিদ ‘মোবাইল কোর্ট’

ফাইল ছবি

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সোনাই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে একের পর এক সরকারি ও জনউদ্যোগে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। দিন দিন বাড়ছে নদীভাঙন ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।

তবে নদী ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসের এই মহোৎসবের পেছনে আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা এবং নেপথ্যের কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ একটি আলোচনা থেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১০ সালে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর অর্থায়নে নির্মিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ রাবার ড্যাম প্রকল্পটি অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। সরজমিনে দেখা যায়, রাবার ড্যাম বাজার, বাহাদুরপুর ও বৈশাকান্দি গ্রামের বিভিন্ন অংশে নদীভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরের ফসল রক্ষা বাঁধে স্থাপিত কংক্রিট ব্লক ধসে পড়ছে।

এদিকে স্থানীয়দের অর্থায়নে সম্প্রতি নির্মিত ২৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের ‘স্বপ্নের অগ্রযাত্রা’ নামের স্টিল সেতুটিও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। নদীর তলদেশ থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে সেতুর পিলার ও সংযোগ সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে দিনের বেলা এবং গভীর রাত পর্যন্ত বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বৈধ লিজ না থাকা সত্ত্বেও বালুবাহী প্রতিটি নৌকা থেকে ‘রয়্যালটি’র নামে প্রতি ঘনফুট বালুর বিপরীতে ১৩ টাকা করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি নৌকায় গড়ে প্রায় ৮০০ ঘনফুট বালু বহন করা হয়। সে হিসাবে প্রতি নৌকা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নৌকায় বালু পরিবহন হওয়ায় এ খাতে দৈনিক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, সোনাই নদী ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন কেন্দ্রিক এ পর্যন্ত প্রায় ৫১ থেকে ৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে আসামির সংখ্যা ৩০০ জনেরও বেশি। তবে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’-এর ধারাগুলো মূলত জামিনযোগ্য হওয়ায় অপরাধীরা সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আক্ষেপ করে জানান, ‘আমরা ৩০০ জনের বেশি আসামিকে আইনের আওতায় আনলেও আইনি দুর্বলতার কারণে তাদের একজনও একদিনের জন্যও হাজত খাটেনি। আদালত থেকে তাৎক্ষণিক জামিন পেয়ে তারা পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।’ উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তাহিরপুরের ‘রথী’ নামের এক শীর্ষ বালুখেকোকে হাজতে পাঠানো হলেও, পরদিনই সে জামিনে এসে পুনরায় নদীতে বালু উত্তোলনে নেমে পড়ে। পরিবেশ আন্দোলন ‘বাপা’র পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সাধারণ ধারার মামলায় কোনো সুফল আসছে না উল্লেখ করে পুলিশ সূত্র জানায়, বালুমহাল, জলমহাল কিংবা নদীমহালগুলোতে পুলিশকে সরাসরি চূড়ান্ত আইনি কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি। এর মূল নিয়ন্ত্রণ উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের হাতে। প্রচলিত আইনে উপজেলা প্রশাসন অনধিক দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডসহ নৌকা বাজেয়াপ্ত করতে পারে।

তাই নিয়মিত মামলার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে আকস্মিক ‘মোবাইল কোর্ট’ বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করাই এর একমাত্র কার্যকর সমাধান। অপরাধীদের তাৎক্ষণিক ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া গেলে তবেই এই চক্রকে থামানো সম্ভব।

স্থানীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘সেতুটি হুমকিতে পড়ার বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার থানায় কল করে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’

এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সুনামগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।’

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যখনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে, পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff