সিলেট

নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে তদন্ত, মাউন্ট এডোরার মাতৃসেবা ইউনিটে মিলল গুরুতর অব্যবস্থাপনা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · রাত ৯:৫৪ · ২০৯ ভিউ

সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ‘ওল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির পাশাপাশি জরুরি অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিটটিতে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. জন্মেজয় দত্ত।

তিনি জানান, মাউন্ট এডোরার সম্প্রতি চালু হওয়া মেটারনিটি ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্থায়ী অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও পাওয়া যায়নি। তদন্তে এসব অসংগতি শনাক্ত হওয়ার পর ইউনিটটি বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ এবং অন্যান্য ঘাটতি পূরণের পর ইউনিটটি পুনরায় চালুর অনুমতি চেয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মেটারনিটি ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা মেনে ইউনিটটি বন্ধ রেখেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে নির্দেশ অমান্য করে কার্যক্রম চালানো হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মাউন্ট এডোরার এই ইউনিটের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে আসে। গত ৯ অক্টোবর নগরের আখালিয়া এলাকার হাসপাতালটিতে সন্তান প্রসবের সময় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা নাজমা বেগমের নবজাতকের মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রসূতির শারীরিক অবস্থা ও আল্ট্রাসোনোগ্রাম প্রতিবেদনে শিশুর সম্ভাব্য ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি উল্লেখ থাকায় তাঁরা শুরু থেকেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা মা ও শিশু সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে আশ্বস্ত করেন। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সময়মতো অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ তাঁদের।

ঘটনার দুদিন আগে নাজমা বেগমকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি সহকারী অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানা মির্জার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

নবজাতকের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রসবের সময় শিশুর মাথা বের হলেও কাঁধ আটকে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার মধ্যেই শিশুটি গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ, প্রসবের সময় অপরিকল্পিত টানাটানির কারণে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকা হলেও ততক্ষণে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন নবজাতকের স্বজনরা। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্তে মেটারনিটি ইউনিটের চিকিৎসক ও জনবল সংকট এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উঠে আসার পরই ইউনিটটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ