বিশেষ প্রতিবেদন

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার তুঙ্গে শিপু

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রতিবেদক · বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ · সকাল ৫:১৬ · ৪৫৯ ভিউ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে যেকোনো মুহূর্তে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে সিলেট জেলা ছাত্রদলের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বত্রই এখন বইছে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের জোয়ার।

বিশেষ করে জেলা ছাত্রদলের অভিভাবকতুল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদটি নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কৌতূহল এখন তুঙ্গে। পদপ্রত্যাশী একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এককভাবে উঠে এসেছেন রাজপথের লড়াকু, পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা—হিলাল উদ্দিন শিপু।

বর্তমানে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই ছাত্রনেতাকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। তাঁদের দাবি, কোনো বসন্তের কোকিল কিংবা সুযোগসন্ধানী নয়; বরং বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে রক্ত ঝরানো হিলাল উদ্দিন শিপুই সাধারণ সম্পাদক পদের সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, হিলাল উদ্দিন শিপুর রাজনৈতিক পথচলা ক্ষমতার পালাবদলে হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো গল্প নয়। স্কুলজীবনেই সিলেট বিএনপির আপসহীন নেতা অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের রাজনৈতিক বলয়ে তাঁর হাতেখড়ি। সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করায় তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি।

মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে মহানগর আওয়ামী লীগের আজাদ গ্রুপের সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলার শিকার হয়ে তাঁর একটি হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই নির্মম ক্ষত আর প্লাস্টার করা হাত নিয়েই তিনি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যা তৎকালীন সময়ে সিলেটের ছাত্ররাজনীতিতে সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

পরবর্তীতে মদন মোহন কলেজ ও সিলেট ল’ কলেজে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা উপেক্ষা করে ছাত্রদলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন তিনি। ল’ কলেজে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণকালে ছাত্রলীগের হামলার মুখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে পাল্টা প্রতিরোধের ডাক দিয়ে ক্যাম্পাস পুনরুদ্ধার করেছিলেন শিপু।

২০১২ সালে এম ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর রাজপথ কাঁপানো ‘ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে বুলেটের ভয় তুচ্ছ করে মিছিলে নেতৃত্ব দেন শিপু। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের দিন কোর্ট পয়েন্টের তীব্র প্রতিরোধ কিংবা একই বছর বেগম জিয়ার মাজার জিয়ারতের সময় দরগাহ গেটে ছাত্রলীগের আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে বাম পায়ে জখম হন তিনি।

শিপুর আপসহীন রাজনীতির কারণে ফ্যাসিবাদী আক্রোশ নেমে এসেছিল তাঁর পুরো পরিবারের ওপরও। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর রাজপথে শিপুকে না পেয়ে সিলেট নগরীর মিরাবাজারে ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাঁর জমজ ভাই পেশাদার সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন টিপুর ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সাংবাদিক টিপুর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রায় ৬টি এবং শিপুর অপর ভাই সিলেট জেলা তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম ইসলাম আলীর বিরুদ্ধে ২০টিরও অধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে সীমাহীন জেল-জুলুম চালানো হয়।

স্বৈরাচারী শাসনামলে সিলেটে যখনই কারফিউ বা নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের নির্দেশে নির্ভীকভাবে সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করেছেন শিপু ও তাঁর সহযোদ্ধারা। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে যখন স্বৈরশাসকের বুলেট ও বুটের তলায় দেশ অবরুদ্ধ, সিলেটে কারফিউ চলাকালে জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রথম কারফিউ ভেঙে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন শিপু। স্বৈরাচার পতনের প্রতিটি ক্ষণে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে ৫ আগস্টের বিজয় পর্যন্ত ফ্রন্টলাইনেই ছিলেন তিনি।

ফ্যাসিবাদের পতনের পরও থেমে থাকেননি এই ছাত্রনেতা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তৃণমূল মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতে দিনরাত কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি সিলেট-৪ আসনে তৃণমূল পুনর্গঠনে মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক হিসেবে রেখেছেন কার্যকর ভূমিকা।

সিলেট জেলা ছাত্রদলের একাধিক মাঠপর্যায়ের নেতা জানান, বিগত দেড় দশকে সিলেটে বিরোধী মতের রাজনীতি করা ছিল জীবনবাজি রাখার মতো কঠিন। স্কুলজীবনে হাত ভাঙা, দেশনেত্রীর আগমনকালে পা জখম হওয়া, সাংবাদিক ভাই কুপিয়ে রক্তাক্ত হওয়া কিংবা চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে বুলেটের মুখে বুক পেতে দেওয়ার মতো ত্যাগের নজির বিরল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং জেলা ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করতে শিপুর বিকল্প নেই।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—কোনো নিষ্ক্রিয় বা ৫ আগস্টের পর উদয় হওয়া সুবিধাবাদীদের পদ দেওয়া হবে না। যাঁরা রক্ত দিয়েছেন, মামলা-হামলা সহ্য করেছেন এবং জুলাই-আগস্টে জীবন বাজি রেখে লড়েছেন, তাঁদেরই নেতৃত্বে আনা হবে।

এ বিষয়ে হিলাল উদ্দিন শিপু বলেন, আমি পদের লোভে কখনো রাজনীতি করিনি। স্কুলজীবন থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনাকে বুকে ধারণ করে রাজপথে আছি। হাত ভেঙে যাওয়া, পা জখম হওয়া কিংবা ভাইয়ের ওপর নৃশংস হামলা—কোনো কিছুই আমাদের জাতীয়তাবাদের পথ থেকে সরাতে পারেনি। হাইকমান্ড যদি আমার অতীত ত্যাগ ও শ্রম বিবেচনা করে দায়িত্ব দেয়, তবে সিলেট জেলা ছাত্রদলকে মেধা, শৃঙ্খলা ও ত্যাগের সমন্বয়ে এক অপরাজেয় দুর্গে পরিণত করব।

সব মিলিয়ে, ত্যাগের খতিয়ান, রাজনৈতিক সততা ও তৃণমূলের ব্যাপক জনপ্রিয়তায় আসন্ন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে এখন হিলাল উদ্দিন শিপু। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের চোখ এখন কেন্দ্রের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।

সম্পর্কিত সংবাদ