জাতীয়

রমজানের আগেই ইউপি নির্বাচন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ · রাত ৮:২৬ · ১৭০ ভিউ

আগামী রমজানের আগেই অন্তত তিন ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দুই ধাপে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তৃতীয় ধাপে ভোট হতে পারে। তিন ধাপে দুই হাজারের বেশি ইউপিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

ইসির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপের ভোটের জন্য প্রাথমিকভাবে আগামী ৩ জানুয়ারি তারিখ বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে এখন জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছে। এরপর জানুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপ এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তৃতীয় ধাপের ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতি ধাপে ৭০০ থেকে ৮০০টি ইউপিতে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রমজানের আগেই তিন ধাপে ইউপি নির্বাচন করার বিষয়টি নিশ্চিত। এসব ধাপে আনুমানিক দুই হাজার ইউপিতে নির্বাচন হতে পারে। সংখ্যাটি কিছুটা কমবেশি হতে পারে। তিনি জানান, প্রথম ধাপের জন্য ৩ জানুয়ারি তারিখ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ভোটের তারিখ তিন-চার দিন পেছানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে তিন ধাপে নির্বাচন আয়োজনের মূল পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে না।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রাক্‌-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ইসি জানিয়েছিল, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সে সময় প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর বলা হয়েছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ইসির সঙ্গে আলোচনা না করে সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন বক্তব্য আসার পর কমিশন তার অবস্থান পরিবর্তন করে।

১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউপি নির্বাচন আয়োজনের জন্য আগে উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করতে হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় সময়ের সুযোগ সীমিত। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রমজান এবং এরপর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পাওয়া সময়ের মধ্যেই ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় কমিশন।

ইসির এক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে কমিশনের আলোচনা চলছে। আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকের পরও বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত চিঠি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কমিশন পায়নি।

এদিকে গত ১ অক্টোবর গাইবান্ধায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে।

দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ হাজার ৬৩টির এবং আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরও ১ হাজার ৪৮টির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হয়। কোনো কারণে পরিষদ ভেঙে দেওয়া হলে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। এ সময় প্রয়োজনে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ইউপিগুলোর নির্বাচন এ বছরের মধ্যে আয়োজনের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজনৈতিক কারণে সরকার চলতি বছর নির্বাচন করতে চাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ইউপি নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সবকিছু কমিশন সভায় আলোচনা হয়, সিদ্ধান্ত হলে আপনারা জানবেন।’

সাধারণত নির্বাচনের ৪৫ থেকে ৫০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীরা প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় পান। তবে এবার ভোট গ্রহণের প্রায় ৩৫ দিন আগে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং প্রচারের জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ