সিলেট

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

শাহী ঈদগাহে মেলার স্টল ভাড়া পৌনে দুই লাখ টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · রাত ১:৩১ · ৩৬৮ ভিউ

সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ মাঠে উদ্যোক্তা মেলার নামে ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক হারে স্টল ভাড়া আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত সিলেট উইমেন্স চেম্বর অব কর্মার্সের সভাপতি লুবনা শম্পার উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় এক মাসের জন্য একেকটি সাধারণ স্টলের ভাড়া দাবি করা হচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। উদ্যোক্তা উন্নয়নের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এমন লাগামহীন অর্থ আদায়ের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, মেলাটিকে ‘উদ্যোক্তা মেলা’ হিসেবে প্রচার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার আয়োজন। যেখানে দেশের ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার কথা, সেখানে শুরুতেই তাদের ওপর বিশাল অঙ্কের আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

হাবিবা সুলতানা নামের এক নারী উদ্যোক্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মেলা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের পর তিনি জানতে পারেন এক মাসের জন্য একটি স্টলের ভাড়া ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কেন এত অস্বাভাবিক ভাড়া? মেলা কর্তৃপক্ষ এমন কী রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা দেবে যার জন্য একজন নারী উদ্যোক্তাকে এত টাকা ভাড়া গুনতে হবে? এক মাসের মেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা শুধু স্টল ভাড়া তুলতে হলে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কোনো সাধারণ উদ্যোক্তার পক্ষে কি তা সম্ভব’

তিনি এই মেলাকে উদ্যোক্তা বান্ধব নয়, বরং ‘মানুষের ক্ষতি করার মেলা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটি একটি লোভী চক্রের আয়োজন ছাড়া আর কিছু নয়। তাদের সব কার্যক্রম আইনি নজরদারির আওতায় আনা উচিত। মেলা শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের আহাজারি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সচেতন মহলের মতে, বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন কৌশলে প্রভাবশালী বলয় খাটিয়ে চড়া মূল্যে ব্যবসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহের মতো উন্মুক্ত স্থানকে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার এবং নারী উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, অনতিবিলম্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত এই মেলার সার্বিক অনুমতি, শর্তাবলি ও অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা। চটকদার প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে কোনো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যাতে তাদের মূল পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত না হন, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সম্পর্কিত সংবাদ