সিলেট

ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে তুলকালাম: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আন্দোলনে নামছে ছাত্র-জনতা!

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রতিবেদক · রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১:৪৬ · ৩৪৫ ভিউ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের স্বজন ও বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় ছাত্র-জনতা।

সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিন মিয়া এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সাঈদের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চূড়ান্ত তালিকায় প্রকৃত যোগ্য ও স্থানীয় প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ফেসবুক ব্যবহারকারী রুবেল আহমেদ এক পোস্টে জানান, ২ নম্বর উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের ইউনিয়ন সভাপতির স্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মাদ আব্দুল গাফফার নামে আরেকজন অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের পরিবারগুলোকে সুবিধা দিতে এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের পরিবারগুলোকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে মনগড়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, অন্য জেলা থেকে সুপারভাইজার নিয়োগের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করেন প্রতিবাদকারীরা। অভিযোগ ওঠে, নেত্রকোনা জেলা থেকে একজনকে সুপারভাইজার হিসেবে আনা হয়েছে, যা নিয়োগ বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারীদের তথ্যের ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সুবিধাভোগী বাছাই করা হয়। ফলে শুরুতেই এমন রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি থাকলে প্রকৃত অসহায় পরিবারগুলো সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সাঈদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির আঙুল তুলেছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, গঠিত তালিকা পুনর্বিবেচনা এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ইতোমধ্যেই বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিন মিয়া জানান, নিয়োগে কোনো স্বজনপ্রীতি করা হয়নি এবং মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। তবে বিতর্ক এড়াতে ও স্বচ্ছতা রক্ষায় বর্তমানে তালিকাটি পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, “ভেরিফিকেশন রিপোর্টে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততা কিংবা ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকে সঙ্গে সঙ্গে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।”

এদিকে সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সাঈদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ