সিলেটের গোয়াইনঘাটে ব্যবসায়িক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে চাঞ্চল্যকর কামরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৪ পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। সোমবার (৫ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লালাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—গোয়াইনঘাট উপজেলার লেঙ্গুড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুর ছোবহান (৫৪), ছমছুল ইসলামের ছেলে বদরুল ইসলাম (৩৪), জৈন উদ্দিনের ছেলে আজাদুর রহমান (৩২) এবং মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে ময়নুল ইসলাম (৪০)।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া উইং জানায়, নিহত কামরুল ইসলাম ও মামলার প্রধান আসামি বিলাল উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বালু ও বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে কয়েক মাস আগে কামরুলকে মারধর করা হলে তার পরিবার মামলা দায়ের করে। ওই মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিলাল ও তার সহযোগীরা কামরুলকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায়, ২২ জুন দুপুরে কামরুল ইসলাম লেঙ্গুড়া বালুমহালে যাওয়ার পথে স্থানীয় কবরস্থানের সামনে তার পথরোধ করে আসামিরা। মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কামরুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকালেই তিনি মারা যান।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে লালাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
