সিলেট

সিলেটে মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ঘোষণা যুদ্ধ নতুন পুলিশ কমিশনারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১২:২৫ · ২১৮ ভিউ

সিলেট মহানগরীতে মাদক, অনলাইন জুয়া নির্মূল এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এসব অপরাধ দমনে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সিলেট মহানগর পুলিশের সদরদপ্তর সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটি কর্মক্ষম ও আধুনিক যুবসমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু মাদক ও অনলাইন জুয়া আমাদের সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে। একজন রিকশাচালকও সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি করে উপার্জিত টাকা অনলাইন জুয়ায় খুইয়ে ফেলছেন। এই পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এই দুটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সভায় সাংবাদিকরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, চুরি ও ছিনতাই বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরলে কমিশনার বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেখানে চেকপোস্ট ও পুলিশের টহল বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

দেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে বিস্ফোরক উদ্ধার ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, সিলেট মহানগরীও সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির বাইরে নয়। তিনি বলেন, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য আমি নগরবাসীকে অনুরোধ করছি।

সিলেট নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা যানজট ও অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, ইতিপূর্বে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের যে ইতিবাচক উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না। তিনি আরও জানান, জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও জনগণের সেতুবন্ধনের ওপর জোর দিয়ে এসএমপি কমিশনার বলেন, “শুধু পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সংবাদকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
মতবিনিময় সভায় সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সিলেটে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত সংবাদ