তীব্র গরমের মধ্যে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগও রয়েছে। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিন-রাত মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ বার লোডশেডিং হচ্ছে। ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও তা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। উপজেলা সদরেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্যমতে, উপজেলার তিনটি উপকেন্দ্রে মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২২ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় বাধ্য হয়ে ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা। বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে টানা লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছেন। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় অনেককে মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে আইপিএসও কার্যকর ব্যাকআপ দিতে পারছে না।
তীব্র গরমের মধ্যে অতিরিক্ত লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “বর্তমান লোডশেডিং একটি জাতীয় সমস্যা। পল্লী বিদ্যুৎ মূলত বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়, আমরা সেই অনুযায়ী বিতরণ করি। চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
