সুনামগঞ্জ

ছাতকের ঘাটে চাঁদাবাজদের ‘টোল সাম্রাজ্য’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬ · সন্ধ্যা ৭:২৬ · ২৩৬ ভিউ

সুনামগঞ্জের ছাতকে নৌ-যান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। মালবাহী নৌযান, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিরাপত্তা প্রহরির নামে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে সিমেন্ট, বালু, পাথরসহ মালামাল নিতে আসা নৌ-যান থেকে এসব চাদা আদায় করে যাচ্ছে ওই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজরা। ছাতক পেপারমিল, লাফার্জঘাট, লক্ষিবাউর বাজার সংলগ্ন সুরমা নদীর তীরে নোঙর করলেই নিরাপত্তার অজুহাতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ এখন সর্বত্রে।

জানা যায়, সারা বছরের ন্যায় বর্ষা মৌসুমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেশি নৌ-যান ছাতকে আসে সিমেন্ট, বালু, পাথরসহ মালামাল পরিবহন করার জন্য। নৌ যানগুলো ছাতক পেপারমিল, লাফার্জ ঘাট ও লক্ষিবাউরবাজার সংলগ্ন সুরমা নদীর দুই তীরে নোঙর করায় মাদরাসা, মসজিদ ও নিরাপত্তা প্রহ-রির নামে এমনকি গাছের সাথে নৌ-যানবাঁধায় নেওয়া হচ্ছে চাঁদা।

এছাড়াও হিজড়া সদস্যরা নিচ্ছে ২শ’ টাকা হারে চাঁদা। অভিযোগ উঠেছে, চাঁদাবাজদের চাঁদা দিলে চুরি-ডাকাতিকমে যায় এবং চাঁদা না দিলে অপরাধ বেড়ে যায় এমন পরিস্থিতি প্রকৃতপক্ষে একটি কৌশলগত চাঁদাবাজির ইঙ্গিত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সরকারি টেন্ডার বা বৈধ ইজারা ছাড়া কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর টোল আদায়ের আইনগত সুযোগ না থাকলেও সেই নিয়ম উপেক্ষা করে একদল চাঁদাবাজরা অদৃশ্য শক্তিরবলে নৌযান ঘাটে ভিড়লেই ২শ’ ও ৩শ’ টাকা হারে আদায় করছে।

সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা প্রহরির নামে ১শ’ টাকা, গাছে নৌ-যানবাঁধার ভাড়া ১শ’ টাকা ও মাদরাসা মসজিদের নামে ১শ’ টাকাসহ মোট ৩শ’ টাকা করে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে নদীতে চলাচলরত এসব নৌ-যান থেকে হিজড়া জনগোষ্ঠীরা ২শ’ টাকা হারে আদায়ের অভিযোগ শ্রমিকদের। এসব ঘটনায় পেপার মিল এলাকায় আজিম উদ্দিন, তাজির উদ্দিন ও স্থানীয় শ্রমিক নেতা এলেমান এবং লক্ষিবাউর এলাকার আবদুল জলিলসহ জড়িত একাধিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

আজিম উদ্দিন ও তাজির উদ্দিন বলেন, এখানে চুরি-ডাকাতিপ্রতিরোধে ভলগেট মালিক ও শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে নিরাপত্তা প্রহরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বেতন পরিশোধের জন্য নৌ-যানের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে টাকা নেওয়া হয়। একই বক্তব্য দিয়েছেন উড়াইল নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতিমিন্নত আলী ও স্থানীয় শ্রমিক নেতা এলেমান, তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মালিক শ্রমিক সংগঠনের অনুমতিক্রমে নিরাপত্তা প্রহরির বেতনের জন্য এসব অর্থ আদায় করা হয়, এটি চাঁদাবাজি নয়। লক্ষিবাউরবাজার এলাকায় অর্থ আদায়কারি আবদুল জলিল বলেন, নিরাপত্তা প্রহরির জন্য তিনি ১শ’ টাকা হারে উত্তোলন করেন। গাছে বাঁধার জন্য ১শ’ টাকা অন্যরা নেয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাছগুলা সরকারি সড়কের পাশে হলেও অন্যদের নিজের জায়গায় গাছ। যাদের নামে লিজ তারাই টাকা নিচ্ছে।

হিজড়া সরদার পাখি বলেন, তারা জোর করে কোন টাকা আদায় করেন না। এমনিতেই নৌ-শ্রমিকরা দেয়। পেপার মিল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খায়ের উদ্দিন বলেন, এখানে কোন চাঁদাবাজি হয় না। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। তবে নিরাপত্তা প্রহরির জন্য যে টাকা উত্তোলন হয় সেটা নৌ-মালিকও শ্রমিক সমন্বয়ে। নৌ-যানএখানে থাকায় বাজারে বেচা-কেনে বেড়েছে।

লক্ষিবাউর মাদরাসার সভাপতি লিয়াকত আলী ও কোষাধ্যক্ষ কুটি মিয়া বলেন, মাদরাসার নামে ১শ’ টাকা অনেক আগেই শ্রমিকরা ধার্য করে সাহায্য করছেন, আমরা জোর করে আদায় করছিনা।

গাছে বাঁধা ও নিরাপত্তার নামে ২শ’ টাকা আদায়ের বিষয়ে তারা বলেন, এই টাকা কারা নিচ্ছে অনুসন্ধান করেন। নদীপথ ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী, মাঝি, নৌ-যানশ্রমিক ও বডি মালিকরা অবিলম্বে এ ধরনের অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপসহ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ছাতক নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, মালিক শ্রমিক সমঝোতায় যদি কোন নিরাপত্তা প্রহরীর বেতনের জন্য এসব অর্থ উত্তোলন হয় তাহলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। তবে এসব বিষয়ে কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। এছাড়া হিজড়ারা মুসেলকা দিয়ে গেছে জোরপূর্বক কোন অর্থ আদায় না করার শর্তে। শ্রমিকরা তাদের ইচ্ছায় কোন অর্থ দিলে দিতে পারে। এ বিষয়েও কোন অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেল) শেখ মোরছালিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ