সুনামগঞ্জ

দোয়ারাবাজারের সোনালী ও মরা চেলা নদীতে সাবেক চেয়ারম্যান রফিকের ড্রেজার ও চাঁদাবাজি বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১:৪৪ · ২৩৩ ভিউ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনালী চেলা নদী ও মরা চেলা নদীর বুক চিড়ে রাতের আঁধারে চলছে নির্বিচারে বালু লুটের মহোৎসব। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে রয়েছে সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার সমন্বয়ে গড়া একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদাবাজিরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তোলপাড় শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন নদনদী ও পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছে এই চক্রটি। বর্তমানে সোনালী চেলা ও মরা চেলা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে শক্তিশালী ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে বেপরোয়াভাবে বালু তোলায় নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতবাড়ি মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে। রাতের বেলা ড্রেজারের বিকট শব্দের কারণে নদীপাড়ের সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে এবং ধ্বংস হচ্ছে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলা অবাধে এই ড্রেজার পরিচালনার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী রাজনৈতিক সিন্ডিকেট। শুধু অবৈধ বালু উত্তোলনই নয়, বরং এই রুট দিয়ে চলাচলকারী বালুবাহী নৌকা ও ট্রলার থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী দুই নেতার নাম এই লুটপাট ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িয়ে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও গ্রুপে পোস্ট হওয়ায় গোটা এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় জানার সাথে সাথেই কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।

নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও তীরবর্তী জনপদ রক্ষায় এবং লুটপাট ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সম্পর্কিত সংবাদ