সুনামগঞ্জের শাল্লায় ঘুষের বিনিময়ে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় বিতর্কের মুখে গত ১৪ জুলাই জামালগঞ্জ থেকে শাস্তিমূলক বদলি (পানিশমেন্ট) হয়ে শাল্লা থানায় যোগদান করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। যোগদানের কিছুদিন পরেই তিনি আবারও এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের চিহ্নিত চোলাই মদ ব্যবসায়ী ও আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি তাজেল ইসলামকে (মালেক মিয়ার ছেলে) অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেন এএসআই গোলাম কিবরিয়া ও কনস্টেবল মান্না মিয়াসহ পুলিশের একটি দল। কিন্তু পরবর্তীতে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে ওই আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। নারকিলা গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাজেল এলাকাতেই অবস্থান করছিল এবং তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ তাকে ধরেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়, যা এখন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রোমান আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টাকার বিনিময়ে যদি ওয়ারেন্টভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ ছেড়ে দেয়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
শাল্লা থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, আদালত থেকে সাজা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ ও অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ৫০-৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে পরোয়ানাভুক্ত আসামি তাজেলকে ছেড়ে দিয়েছেন এএসআই কিবরিয়া।
এদিকে অভিযানে সাথে থাকা কনস্টেবল মান্না মিয়া ঘটনার সত্যতা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা চাপে রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আসামি তাজেল ইসলাম পুলিশ কর্তৃক তাকে আটক ও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ঘুষের লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে এএসআই গোলাম কিবরিয়া বলেন, “আসামি নিজেই স্বীকার করেছিল তার বিরুদ্ধে সাজা ও ওয়ারেন্ট আছে। তবে ওয়ারেন্ট অফিসার শাহজাহান স্যারের নির্দেশনায় তাকে থানায় আনা হয়নি।” তবে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি একাধিকবার তা এড়িয়ে যান।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ শওকত আলী জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় বিচার নিশ্চিত করা হবে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন জানান, তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলেই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে ক্লোজ করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
