দুবাই থেকে দেশে ফেরার মাত্র ১২ দিনের মাথায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন মো. আশরাফ হোসেন রুম্মান (৩৮) নামের এক প্রবাসী। স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সাভার ও কক্সবাজারে অবকাশ যাপন শেষে ফেরার পথে তাকে বাসে তুলে দিয়েই তিনি উধাও হন। স্বামীর সন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে তার একাধিক বিয়ে ও প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য। বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তার বর্তমান স্ত্রী শামসুন্নাহার রেখা।
নিখোঁজ আশরাফ হোসেন রুম্মান সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের গজুকাটা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী শামসুন্নাহার রেখা জানান, ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ও আদালতের মাধ্যমে (কোর্ট ম্যারেজ) রুম্মানের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর রুম্মান দুবাইয়ে থাকলেও নিয়মিত রেখার ভরণপোষণ বহন করতেন এবং তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল। এমনকি রেখা নিয়মিত তার শাশুড়ির বিকাশ নম্বরেও টাকা আদান-প্রদান করতেন।
গত ২ জুলাই রুম্মান দুবাই থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে রেখা তাকে রিসিভ করেন। এরপর ২ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত তারা সাভারের একটি রিসোর্টে এবং ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজারে অবস্থান করেন।
গত ১৪ জুলাই তারা ঢাকায় ফিরে আসেন। ওই দিনই রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার মতলব বাসস্ট্যান্ড থেকে রেখাকে একটি বাসে তুলে দেওয়ার পর থেকেই রুম্মান নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
রহস্যের জট খুলতে শুরু করে গত ১৮ জুলাই। রেখা অনলাইনে বাসের টিকিট কাটতে গিয়ে দেখতে পান, গত ১৪ জুলাই তার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেই সায়েদাবাদ থেকে বিয়ানীবাজার যাওয়ার একটি টিকিট কাটা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রুম্মান নিজেই সেই টিকিট কেটে সিলেটে চলে যান। একই দিন দুপুরে মুন্নি নামের এক নারী নিজেকে রুম্মানের স্ত্রী দাবি করে রেখাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। মুন্নি দাবি করেন, রুম্মান বর্তমানে তার কাছেই আছেন।
নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে শামসুন্নাহার রেখা বলেন, আইনি ও ধর্মীয় সকল বিধান মেনেই আমাদের বিয়ে হয়েছে। সে দুবাই থাকার সময় আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। দেশে ফেরার পর আমরা একসাথে কক্সবাজারে কত সুন্দর সময় কাটালাম। কিন্তু হঠাৎ করে আমাকে বাসে তুলে দিয়ে সে কোথায় হারিয়ে গেল, আমি বুঝতে পারছি না। এখন শুনছি সে নাকি আগে আরও অনেক বিয়ে করেছে। তার সাবেক স্ত্রী আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি একজন বৈধ স্ত্রী হিসেবে আমার স্বামীর সন্ধান চাই এবং এই প্রতারণার বিচার চাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী আশরাফ হোসেন রুম্মান দুবাই থেকে আসার পর কয়েক দিন ঢাকায় স্ত্রী রেখার সাথে কাটিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। তবে তার একাধিক স্ত্রী থাকার বিষয়টি এলাকায় লোকমুখে প্রচলিত থাকলেও স্বজনরা তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে রুম্মানের প্রথম স্ত্রী দাবিদার মুন্নি বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আশরাফকে তার স্বামী হিসেবে স্বীকার করেন। তবে আশরাফ বর্তমানে তার সাথে আছেন কি না বা তাদের বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং বিস্তারিত কথা বলতে সরাসরি দেখা করার শর্ত দেন।
স্বামী নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে প্রতারণার তথ্য ফাঁস হওয়ায় বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শামসুন্নাহার রেখা। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। রেখা এই রহস্যজনক নিখোঁজ ও প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
