সিলেট

জৈন্তাপুরে ট্রাকচালকের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজি, শ্রীঘরে ছাত্রদল নেতা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ · রাত ১০:০৮ · ২৫৩ ভিউ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

সিলেটের জৈন্তাপুরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত বালুর ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে রহমত মারুফ (২২) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বিরাখাই হাটিরগ্রাম ওয়াবদার বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রহমত মারুফ ওই এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, বড় গাং নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন এবং নদী ভাঙন রোধে সরকারি বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ওই প্রকল্পে বালু সরবরাহকারী ট্রাকগুলো বিরাখাই হাটিরগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে রহমত মারুফের নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক পথরোধ করেন। তারা নিজেদের ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে ট্রাক চলাচলের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন।

ট্রাকচালক মাহফুজুর রহমান ও প্রকল্পের ম্যানেজার ফারুক আহমদ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। চালককে ট্রাক থেকে নিচে নামিয়ে মারধর করা হয় এবং ট্রাকে ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মারধর চলাকালে অভিযুক্তরা ট্রাকচালকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং জামাল আহমদ নামের এক সহযোগী ম্যানেজার ফারুক আহমদের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ট্রাকচালক মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে রহমত মারুফ এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে তিনি জমি দখল, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি এবং ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা সিগারেট ও কসমেটিকসের সিন্ডিকেট থেকে নিয়মিত মাশোহারা আদায় করে আসছিলেন।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা প্রদান এবং চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রহমত মারুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরনের চাঁদাবাজির কারণে উন্নয়ন কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ