সুনামগঞ্জ

যাদুকাটায় বালু উত্তোলনে মন্ত্রণালয়ের আদেশে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ · সন্ধ্যা ৬:৩৮ · ১৬৭ ভিউ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। সাবেক ইজারাদার রতন মিয়ার দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে সম্প্রতি আদালত এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিটের শুনানি শেষে বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেন। একই সঙ্গে মো. নাছির মিয়াকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

আদালতের স্থগিতাদেশ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন রিটকারী রতন মিয়া। তিনি তাহিরপুর উপজেলার ননাই গ্রামের মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজের মালিক।

রতন মিয়ার দাবি, নিয়ম মেনে দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনি যাদুকাটা বালুমহালের ইজারা পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার যথাযথভাবে দরপত্র আহ্বান না করেই ভূমি মন্ত্রণালয় একজনকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়। ওই আদেশকে বেআইনি দাবি করে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত করার পর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, বালুমহালসংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হাইকোর্টের নতুন আদেশের কপি এখনো হাতে পৌঁছেনি। কপি পাওয়া গেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে যাদুকাটা বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয় মো. নাছির মিয়াকে। তিনি মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের মালিক এবং তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে বলা হয়, সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারকে বিগত তিন বছরের গড় বাজারমূল্যের ওপর অতিরিক্ত ১২ শতাংশ কর ধার্য করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল প্রতিষ্ঠানটির।

সম্পর্কিত সংবাদ