বিশেষ প্রতিবেদন

জাফলংয়ে সরকারি জমি দখল করে ৫০ স্থাপনা, দখলে ৮ ব্যক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১১:৪৭ · ২৮৪ ভিউ

সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ের গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ৪ দশমিক ৬৫ একর সরকারি জমি দখল করে ৫০টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের তথ্য উঠে এসেছে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে। এসব স্থাপনা আট ব্যক্তির দখলে রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একসময় জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বল্লাঘাট। সেখানে গাড়ি রেখে পর্যটকেরা হেঁটে গুচ্ছগ্রাম টিলার পাদদেশের জিরো পয়েন্টে যেতেন। তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে গুচ্ছগ্রাম টিলায় রেস্ট হাউস নির্মাণের জন্য বাইপাস সড়ক তৈরি হওয়ার পর বদলে যায় পর্যটনকেন্দ্রটির চিত্র।

২০১৭-১৮ সালের দিকে গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াত বাড়তে শুরু করলে এটি জাফলংয়ের অন্যতম প্রধান জংশনে পরিণত হয়। এরপর সেখানে গড়ে উঠতে থাকে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এসব স্থাপনা নির্মাণ করতে গিয়ে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ ওঠে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চৈলাখেল তৃতীয় খণ্ড মৌজায় গুচ্ছগ্রাম নামে পরিচিত ৮ দশমিক ২৫ একর বাগান শ্রেণির সরকারি ভূমি রয়েছে। ভূমিটি আগে মারন খাসিয়া নামে এক ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তারা ভারতে চলে গেলে জমিটি অর্পিত ও অনাগরিক সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

পরে বিএস জরিপে জমিটি ৮০ ও ৮১ নম্বর দাগে বিভক্ত হয়। ৮০ নম্বর দাগের ৫ দশমিক ৬১ একরের মধ্যে ৩ দশমিক ৫৯৫ একর বিজিবি ক্যাম্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। অবশিষ্ট ২ দশমিক ১৫ একর এবং ৮১ নম্বর দাগের ২ দশমিক ৬৪ একর সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমির বড় অংশ বেদখল হয়ে যায়। বর্তমানে মোট ৪ দশমিক ৬৫ একর সরকারি জমি আট ব্যক্তির দখলে রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নলজুড়ির আব্দুল কুদ্দুছের দখলে রয়েছে জাফলং ভিউ রেস্টুরেন্ট, ১৯টি দোকান ও একটি পাবলিক ওয়াশরুম। একই এলাকার ফারুক আহমদের দখলে রয়েছে জাফলং ভিউ গেস্ট হাউস ও নয়টি দোকান।

মোহাম্মদপুর এলাকার আনোয়ার হোসেন ওরফে জুবের আহমদের দখলে রয়েছে প্যারিস রেস্টুরেন্ট ও গেস্ট হাউস। জৈন্তাপুরের নুরুজ্জামানের দখলে রয়েছে জৈন্তা ভ্যালি রিসোর্ট ও চারটি দোকান।

লাখেরপাড়ার আলম বখতের নামে রয়েছে জাফলং গ্রিন রেস্টুরেন্ট ও সাতটি দোকান। একই এলাকার বাবলু বখতের দখলে রয়েছে রয়েল রিসোর্ট ও পাঁচটি দোকান। উমর আলীর দখলে রয়েছে পর্যটক ভিউ রেস্টুরেন্ট ও তিনটি দোকান। আর গুচ্ছগ্রামের রায়হান আহমদের দখলে রয়েছে সীমান্ত রেস্টুরেন্ট ও দুটি দোকান।

উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা এসব অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদের সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে দখলদার আলম বখত ও নুরুজ্জামান দাবি করেন, জমি কেনাসংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আবদুল মোনায়েম সরকারি জমি দখলসংক্রান্ত বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ