সিলেট

হেলমেট বাহিনী ও অস্ত্রধারীদের জনগণ আর ভয় পায় না: অ্যাডভোকেট জুবায়ের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬ · রাত ৮:২৩ · ১৬৫ ভিউ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ৫ আগস্ট শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্ব ইতিহাসের এক আলোচিত দিন। এটি কেবল এক মাসের আন্দোলনের ফল নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয়। দেড় হাজারের বেশি শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এই বিজয়ের দিনেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হেলমেট বাহিনী ও অস্ত্রধারীদের মহড়া ছাত্র-জনতার উৎসবকে ম্লান করে দিচ্ছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্টারি মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য সিলেট জেলা ও মহানগর আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উদযাপন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সভার আয়োজন করা হয়।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী তাণ্ডব আর মেনে নেওয়া হবে না। যারা ভাবছেন অস্ত্র ও পেশিশক্তি দিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখবেন, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই—দুই বছর আগে অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়েও স্বৈরশাসক টিকে থাকতে পারেনি, ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের বের করে দেওয়া এবং গেস্টরুম কালচার ফিরিয়ে আনার রাজনীতি সরকারের জন্য শুভ হবে না। জনগণ এখন জাগ্রত, তারা আর হেলমেট বাহিনীকে ভয় পায় না।

জনগণের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। সরকারকে অবিলম্বে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শেখ হাসিনা ও তাঁর দোসরদের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় রাজপথেই এর ফয়সালা হবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, এনসিপি জেলা আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, জেলা সভাপতি হাফিজ মাওলানা ইকবাল হুছাইন, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, এলডিপি জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল আমিন নিয়াজী প্রমুখ।

বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে জনসভা শুরুর আগেই রেজিস্টারি মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন উপজেলা ও থানা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভায় যোগ দেন হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো সিলেট নগরীতে গোপনে মিছিলের চেষ্টা করছে। প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে এবং ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেকোনো অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।

সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ মেহেদী হাসান এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার ও ইমরান আহমদ। সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত সংবাদ