সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলার দিরাই উপজেলায় এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার এক দিনে ১৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি বন্যার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে সীমান্তবর্তী মেঘালয় রাজ্যেও ভারী বৃষ্টিপাত চলমান আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উজানের চেরাপুঞ্জিতে ১৬৮ মিলিমিটার ও কুচবিহারে ২৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন তা অব্যাহত থাকবে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে। সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৬ দশমিক ৯৬ মিটার ও ছাতক পয়েন্টে ৮ দশমিক ১৯ মিটার। একই পয়েন্টে গতকাল ছিল ৬ দশমিক ৮৭ মিটার ও ৭ দশমিক ৯১ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় যাদুকাটা লাউড়েরগড় পয়েন্টে ৬ দশমিক ৬০ মিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।
এ ছাড়া জেলার তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই, জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা, দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চলতি নদে পানি কমবেশি বেড়েছে। তবে নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে।
সুনামগঞ্জের হাওর ও নদী বর্ষার পানিতে টইটম্বুর। সমতল ও উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছে নদ-নদীতে। আগামী দুই দিন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে পাউবো।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-২) মো. এমদাদুল হক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দিরাইয়ে ৪০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। আগামী দুই দিন উজান ও ভাটিতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে জেলায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
