সিলেট

দেশকে বিশেষ রাষ্ট্রের তাবেদার বানানোর সুযোগ দেবেন না: অ্যাডভোকেট জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১২:৫২ · ৩০১ ভিউ

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাসগুলোতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে চলমান সংঘাতকে ‘আত্মঘাতী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৬ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাডভোকেট জামানের এই ভারসাম্যপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিও বার্তায় সামসুজ্জামান জামান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আপনারা যদি দেখেন, দেশনায়ক তারেক রহমান আজ প্রাণপণ চেষ্টা করছেন দেশকে অর্থনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক—সব দিক থেকে শক্তিশালী করার জন্য। তিনি যখন একটি সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন, তখন আপনারা এই পরস্পর সহযোগীরা সংঘাত ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে এটি রাষ্ট্রের কাঠামোকে নাড়িয়ে দেবে। তারেক রহমানের শক্তিশালী রাষ্ট্র ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা জরুরি।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কেউ কেউ জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। এর মাশুল আপনাদেরকেই দিতে হবে। আপনারা যারা সামান্য কারণে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে গেছেন আজকে, আপনারা কিছুদিন আগেও তো বন্ধু ছিলেন। আপনারা উভয়েই মজলুম ছিলেন। আপনারা কি ভুলে গেছেন আপনাদের আসল শত্রু কে? আপনারা যদি ভুলে গিয়ে থাকেন, তাহলে এর মাশুল আপনাদেরকেই দিতে হবে এবং দেশবাসীকেও এর মাশুল হয়তো দিতে হবে।

ক্যাম্পাসগুলোতে সংঘাতের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, হঠাৎ করেই সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে দুটি প্রধান ছাত্র সংগঠন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এই জিনিসটা যে কত বড় আত্মঘাতী, সেটি টের পেতে হয়তো বেশিদিন লাগবে না। আপনারা সেই অপশক্তিকে সুযোগ করে দিচ্ছেন যারা এই দেশটাকে পিছিয়ে নিতে চায় এবং দেশটাকে একটি বিশেষ রাষ্ট্রের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেন, পাকিস্তান সামরিক ডিটারেন্স (Deterrence) বা সক্ষমতার মাধ্যমে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে গত ২০ বছরে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে হবে, কারণ রাষ্ট্র শক্তিশালী হলে ঘরে চোর-ডাকাতের উপদ্রব কমবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি উভয় সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ ও সমাজের স্বার্থে, বাংলাদেশের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ বন্ধ করুন। নেতৃবৃন্দ একটু এগিয়ে আসুন এবং ক্যাম্পাসগুলোকে শান্ত করুন।

সামসুজ্জামান জামান জানান, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের দেশপ্রেম ও উপলব্ধি বোধ থেকেই তিনি এই ভিডিও বার্তাটি দিয়েছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এই ডাক ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত সংবাদ